আবারও শংকু রানী’র খেল দেখল সিলেটের আদালত পাড়া

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০২১

আবারও শংকু রানী’র খেল দেখল সিলেটের আদালত পাড়া

প্রতীকী ছবি


নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এক মহিলা প্রতারককে আটক করেছেন আইনজীবীরা।

 

 

বুধবার (২০ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে এক নারীর সাথে বাকবিতন্ডার সময় আইনজীবীদের নজরে আসেন ওই মহিলা প্রতারক। পরে তাকে আটক করে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি একেক সময় একেক পরিচয় প্রদান করেন।

 

 

আটক ওই প্রতারক মহিলার নাম শংকু রানী সরকার লিলি। তিনি কখনো আইনজীবী, আবার কখনো সাংবাদিক কিংবা প্রভাষক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে থাকেন।

 

 

শংকু রানী ২০১৮ সনের ৩ মে একই এলাকায় ধরা খেয়ে শ্রীঘরে ছিলেন। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আদালত বসার পর তিনি বাইরে না গিয়ে ভিতরেই অবস্থান করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে বাইরে যেতে বললে তিনি বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে প্রতারক সেজে আটক হন এবং পরে তাকে শ্রীঘরে প্রেরণ করা হয়। ওই সময়টাতে শঙ্কু রানী নগরের উপকণ্ঠ শাহপরাণের বহর মণিপুরী পাড়ার নিপবন আবাসিক এলাকার অপূর্ব কান্তি তালুকদারের স্ত্রী এবং তিনি নগরের কাজিটুলার ৬ নম্বর বাসায় থাকতেন বলে জানিয়েছিলেন।

 

 

কিন্তু আজকের আটক শংকু রানী মেজরটিলাস্থ ইসলামপুর এলাকার ৩৫/২ এন আর টাওয়ারের বাসিন্দা বলে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন। এই ঠিকানা উল্লেখ করে নিজেকে আয়কর আইনজীবী পরিচয় দিয়ে একটি ভিজিটিং কার্ডও আছে তার। তবে গলায় ঝুলানো আছে ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউমেন রাইটস’ মানবাধিকার সংস্থার একটি পরিচয়পত্র। তিনি ওই সংস্থা সম্পাদিত পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার বলেও পরিচয় দেন। কিন্তু বাঁধ সাধে সাংবাদিক দেখেই। প্রতারণার দায়ে তাকে আটকের খবরে সাংবাদিকরা জড়ো হলে তিনি পরিচয় পরিবর্তন করে নিজেকে একটি কলেজের প্রভাষক পরিচয় দেন। তবে কোন পরিচয়ে যখন কাজ হচ্ছিলো না তখন শংকু রানী ক্ষেপে যান সাংবাদিকদের উপর। বলেন, ‘বাঁশ দিবো। আমি ক্রাইম রিপোর্টার। সব সাংবাদিকদের বাঁশ দিবো। একটা নয়, ৯ টা, ৬ টা বাঁশ দিবো।’

 

 

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজর রহমান বলেন, ‘শংকু রানী নিজেকে আয়কর আইনজীবী পরিচয় দেন। এবং সিলেট কোর্টের তারই সহকর্মী একজন আইনজীবী দিয়ে একজন নারীর কারাগারে থাকা ছেলেকে জামিন করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদে ৪৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু ভুক্তভোগী নারীকে বার বার ঘুরালেও নারীর ছেলেকে জামিন করাতে পারেননি। আজ আবার ভুক্তভোগী নারীকে আদালতে নিয়ে এসে ছেলের জামিন করাতে না পারায় ওই নারী কারণ জানতে চাইলে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। যা আইনজীবীদের নজরে এলে তাকে আটক করা হয়।’

 

 

তবে নগদ ৩০ হাজার টাকা আদায় করে ভবিষ্যতে এমন কাজ সে আর করবে না মর্মে মুচলেকা রেখে শংকু রানীকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ।

 

 

একই সাথে এরকম প্রতারকচক্র থেকে জনগণকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

 

 

তবে শংকু রানীর প্রতারণার এ কাজ নতুন নয়। এর আগেও সে একবার প্রতারণা করে সিলেট কোর্ট প্রাঙ্গণে ধরা খেয়ে জেলে যেতে হয়েছিলো বলে জানান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশিকুর রহমান।

 

 

জানা যায়, শংকু রানী ২০১৮ সনের ৩ মে একই এলাকায় ধরা খেয়ে শ্রীঘরে ছিলেন। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে সকালে আদালত বসার আগে থেকেই শঙ্কু রানী ভেতরে বসা ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা তাকে আদালত কক্ষ থেকে বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শঙ্কু রানি নিজেকে কর আইনজীবী পরিচয় দেন। এ সময় অন্য আইনজীবীরা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে ওই নারী নিজেকে মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দেন। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়ান তিনি। একপর্যায়ে শঙ্কু রানী কয়েকজন আইনজীবীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় মুখ্য মহানগর হাকিম তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিলে তিনি পুলিশের তিন কনস্টেবল রাহাত, শিউলি ও লিজাকে মারধর করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। ঘটনার আকস্মিকতায় আদালতের কার্যক্রম কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো।

 

 

সেই সময় শঙ্কু রানী নগরীর উপকণ্ঠ শাহপরাণের বহর মণিপুরী পাড়ার নিপবন আবাসিক এলাকার অপূর্ব কান্তি তালুকদারের স্ত্রী এবং তিনি নগরের কাজিটুলার ৬ নম্বর বাসায় থাকেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর