করোনায় নগদ সহায়তাসহ ৭ দফা প্রস্তাব বিএনপির

প্রকাশিত: ১১:২৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২১

করোনায় নগদ সহায়তাসহ ৭ দফা প্রস্তাব বিএনপির

বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
মহামারি করোনায় বিপর্যস্ত জনজীবন। সারাদেশে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। এমন অবস্থায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তিন মাসের এককালীন ১৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানসহ সরকারের কাছে সাত দফা দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

 

 

শনিবার দুপুরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান।

 

 

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ঠেকাতে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম লকডাউনে ১৮ দফা বিধিনিষেধ দেয়া হয়। পরে তা দুই দিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। সেসময় সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা চালু ছিল।

 

 

এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ সব অফিস ও পরিবহন বন্ধের পাশাপাশি বাজার-মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ হয়। তবে উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়। লকডাউনের কারণে বিপাকে পড়েন নিম্নআয়ের মানুষ। পরিবার নিয়ে তাদের চলা কষ্টকর হয়ে ওঠে।

 

 

করোনার বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপির পক্ষ থেকে নিম্নআয়ের মানুষদের তিন মাসের এককালীন নগদ অর্থ সহায়তা দেয়াসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়।

 

 

বিএনপির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. লকডাউনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দিন আনে দিন খায়- এ শ্রেণির গরিব দিন মজুর পেশাজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের প্রত্যেককে এ পর্যায়ে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় বিশেষ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য ১৫ হাজার টাকা এককালীন নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

২. বাংলাদশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশে মোট শ্রমশক্তি ছয় কোটি আট লাখ। এরমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে (শ্রম আইনের সুবিধা পান) কর্মরত জনশক্তি মাত্র ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। সবচেয়ে বড় অংশ ৮৫ দশমিক এক শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। এই হিসেবে দেশের পাঁচ কোটি মানুষ দিনমজুরের মতো কাজ করেন। যাদের শ্রম আইন-২০০৬ প্রদত্ত নিয়োগপত্র, কর্মঘণ্টা, চিকিৎসা ভাতা, বাড়ি ভাড়াসহ বেশিরভাগ অধিকারই নিশ্চিত নয়। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত এ সকল শ্রমিকদের প্রত্যককে রাষ্ট্রীয় বিশেষ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য ১৫ হাজার টাকা এককালীন নগদ অর্থ প্রদান করতে হবে। এদের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে পরিস্থিতির আলোকে প্রয়োজনে এ বরাদ্দ নবায়ন করতে হবে।

 

 

৩. নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা দারিদ্রের বর্তমান হার বিবেচনায় নিয়ে সমগ্র দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা সহায়তা প্যাকেজের আওতায় আনতে হবে। ৪. গত বছরের অভিজ্ঞতা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষভাবে দুঃস্থ উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে প্রকৃত দুঃস্থ এই মানবিক প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত না হয়। ৫. ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ও কৃষিখাতে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব তহবিল থেকে বিশেষ প্রণোদনা অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় না নিয়ে প্রত্যকে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প উদ্যোক্তাদের এ ঋণ প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

৬. ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ঋণ প্রণোদনা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। ৭. ২০২০ সালের এপ্রিলে বিএনপি উপস্থাপিত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সম্বলিত প্রণোদনা প্যাকেজকে যথাযথ মূল্যায়ন করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মনে রাখতে হবে আমরা পুরো জাতি আজ এক মহাসংকটের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করছে। এ মুহূর্তে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে আমাদের এ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। অন্যথায় এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর