কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মশালায় বক্তারা : সিলেট বিভাগে আউশ ধানের উৎপাদন বেড়েছে

প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৮

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মশালায় বক্তারা : সিলেট বিভাগে আউশ ধানের উৎপাদন বেড়েছে

ডেস্ক প্রতিবেদন
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সিলেট অঞ্চলে আউশ ও ভুট্টা আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, সমস্যা এবং সমস্যা উত্তোরণে করণীয় শীর্ষক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের’ আওতায় জেলা পরিষদ সম্মেলন কে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আলতাবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সিলেট সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শিরিন সুলতানা ও জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সুব্রত দেবনাথ এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, এটিআই, বারি, ব্রি, এসআরডিআই, এসসিএ, হর্টিকালচার সেন্টার এবং কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) সনৎ কুমার সাহা।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. ওহিদুজ্জামান। তিনি বিগত তিন বছরে প্রকল্পের বাস্তবায়িত কার্যক্রমের প্রভাব এবং ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের কর্ম পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এ অঞ্চলে শস্যের গড় নিবিড়তা ৫% বাড়াসহ ভুট্টা ও আউশ আবাদ ব্যাপক সম্প্রসারিত হয়েছে বলে জানান।

উম্মুক্ত আলোচনায় ও কারিগরী সেশনে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রকল্পের আওতায় ভবিষ্যতে করণীয় বিষয়ক তথ্যাদি উপস্থাপন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল মুন্নাফ, মৌলভীবাজার জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কাজী লুৎফুল বারী, হবিগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. জালাল উদ্দিন, সিলেট জেলা অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) বিমল চন্দ্র সোম।

কর্মশালায় উপস্থিত থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা কৃষি অফিসার মো. বদরুল হক, গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আনিছুজ্জামানসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কৃষকরা জানান, প্রকল্পের কার্যক্রম নেয়ার ফলে ফসল আবাদই শুধু বাড়েনি, ফলন ও বেড়েছে। তারা বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় মাল্টা, লিচু ও আউশের আবাদ বেড়েছে। আকস্মিক বন্যা মোকাবেলায় ব্রিধান৫১ ও ব্রিধান৫২ জাত চাষ করিয়ে সুফল পেয়ছেন। কর্মশালায় সিলেট অঞ্চলে জমি পতিত থাকার পিছনের নানা কারণসমূহ শনাক্ত করা হয়। কারণগুলোর মধ্যে সেচের পানির অভাব, পাথর ও গ্যাসের কারণে সেচ যন্ত্র স্থাপনে সমস্যা, বড় কৃষকদের চাষাবাদে অনীহা, জমির মালিক বিদেশে থাকা, জমি বর্গা দিতে অনীহা ও শ্রমিক সংকট।

উল্লেখযোগ্য এসব সমস্যা সমাধানের জন্য উপস্থাপকগণ বিভিন্ন সুপারিশমালা উত্থাপন করেন। বিশেষ করে সেচের সুবিধা, ফসল কর্তন মেশিন সরবরাহ এবং হাওড়ে বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র স্থাপন নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সুপারিশমালায় জোর দাবী দেওয়া হয়। কর্মশালায় ভুট্টা বাজারজাতকরণের সমস্যা সমুহ ও উত্তোরনণ করণীয় নির্ধারিত হয়। পরবর্তীতে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনার বিভিন্ন যুক্তি, তথ্য ও মতামত উপস্থাপনের জন্য মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত ফলপ্রসূ মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন উপপরিচালকগণ, জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিসার, এসএএও প্রমুখ।

কর্মশালার প্রধান অতিথি সনৎ কুমার সাহা উত্থাপিত সমূহ সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে বলেন, এ অঞ্চলে পতিত জমি চাষের আওতায় আনা ও শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধির জন্য মাঠ পর্যায়ে পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করতে হবে। নতুন ফসল বাজারজাত করণ তথা ভুট্টার বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় পদপে নিতে কৃষি বিপনণ অধিদপ্তরকে ও সেচ সুবিধা বাড়াতে বিএডসিকে উদ্যোগ নিতে বলেন।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর