গোয়াইনঘাটে ট্রিপল মার্ডার : দুইটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে পুলিশ

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২১

গোয়াইনঘাটে ট্রিপল মার্ডার : দুইটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে পুলিশ

বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি গ্রামে একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দুইটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত কাজ চালাচ্ছে পুলিশ। এমনকি তদন্তে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে পরিবারের কর্তা ব্যক্তি গুরুতর আহত হিফজুর রহমানকে। এছাড়াও, প্রতিবেশিদের বক্তব্য আরও গভিরভাবে পর্যালোচনা করে তদন্ত চালাবে পুলিশ।

 

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকে এমনটি জানিয়েছেন পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ পিপিএম।

 

তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং মামার বাড়ির সাথে ঝামেলার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। কারণ হিফজুর রহমান দীর্ঘদিন থেকেই মামার বাড়িতে থাকছেন। এটি হয়তো মামার বাড়ির লোকজন ভালোভাবে নেননি। সেজন্য হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। এছাড়া হিফজুর রহমানের পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেও এটি হতে পারে। আমরা মূলত এসব বিষয় সামনে রেখেই প্রাথমিক তদন্ত করছি।

 

তিনি আরও বলেন, ঘটনার আগে এবং পরে এই ঘরে কাউকে প্রবেশ করতে দেখেননি কেউ। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে আমরা যে বটি দা উদ্ধার করেছি তা কুমড়া পাতা দিয়ে মোড়ানো ছিল। সেজন্য হিফজুর রহমানকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হচ্ছে।

 

এর আগে বুধবার (১৭ জুন) সকালে গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন- বিন্নাকান্দি গ্রামের হিফজুর রহমানের স্ত্রী হালিমা বেগম (৩০), তার ছেলে মিজান (১০) ও মেয়ে তানিশা (৩)। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন হালিমা বেগমের স্বামী হিফজুর রহমান। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি দেখে প্রতিবেশীরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। ভেতর থেকে ঘুঙ্গানির শব্দ শুনে তারা দরজায় ধাক্কা দেন। এসময় ঘরের দরজা খোলা ছিল। ভেতরে প্রবেশ করে খাটের মধ্যে তিন জনের জবাই করা ও কুপানো মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার এসআই মহসিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করেন এবং হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠান। হিফজুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দায়ের কোপ ছিল।

 

গোয়াইনঘাট থানার ওসি আবদুল আহাদ তিনজন নিহত ও একজন আহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বটি দা দিয়ে কুপিয়ে কে বা কারা মা ও শিশু সন্তানদের হত্যা করেছে। দুর্বৃত্তরা পরিবারের সবার মৃত্যু নিশ্চিত করলেও ঘরের কর্তা ব্যক্তি হিফজুর রহমান বেঁচে গেছেন। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। ঘটনার কারণ খুঁজে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর