জেলা পরিষদ সিলেটে রামরাজত্ব : প্রকৌশলী হাসিবের ভয়ে দুর্নীতি করতে বাধ্য হন কর্তাব্যক্তিরা

প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

জেলা পরিষদ সিলেটে রামরাজত্ব : প্রকৌশলী হাসিবের ভয়ে দুর্নীতি করতে বাধ্য হন কর্তাব্যক্তিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠে পরপর দু’টি তথ্যবহুল সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসেছে তার অনুগত দালাল ও ঠিকাদার সিন্ডিকেট। তারা ধারাবাহিক নিউজ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের নানাভাবে ম্যানেজ করতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালের কাছে ধরণা দিতে বাধ্য হয়েছেন তার অনুগতরা। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠে প্রথম দফায় ‘জেলা পরিষদ সিলেটে উপসহকারী প্রকৌশলী হাসিবের রামরাজত’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদটি লুফে নেয়। একাধিক পোর্টালের সাংবাদিকরা নিউজটি অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশেরও উদ্যোগ নেন।

 

খবর পেয়ে প্রকৌশলী হাসিবের অনুগতরা ছড়িয়ে পড়ে নগরজুড়ে। তারা ধরণা দিতে থাকে পোর্টালের সাংবাদিক ও প্রকাশকদের কাছে। মোটা অঙ্কের হাদিয়ার বিনমিয়ে তারা নিউজটির অনলাইন প্রকাশনা বন্ধ করে দেন।

 

খবর পেয়ে বিজয়ের কণ্ঠ’র সাংবাদিক গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ পত্রিকায় ‘অনিয়মের রামরাজত্ব জেলা পরিষদ, সাংবাদিকদের একহাত করে নেয়ার হুংকার প্রকৌশলী হাসিবের’ শীর্ষক আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলে আবারো নড়ে চড়ে বসেন প্রকৌশলী হাসিব ও তার অনুগতরা। তারা এবার বিজয়ের কণ্ঠ’র প্রকাশক ও প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলার হুমকি দিতে শুরু করেছেন। হুমকি ও ধমকি দিয়ে বারন করতে না পেরে কয়েকটি মাধ্যমে তারা বিজয়ের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে অন্যভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

 

এদিকে প্রকৌশলী হাসিবের অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধানে মাঠে রয়েছে দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানী টিম। তারা সিলেট জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদের জ্ঞাতআয় বহির্ভুত সম্পদের খোঁজ নিতে শুরু করেছেন। সরকারি বেতন-ভাতার বাইরে ব্যাংক কুরিয়ার ও অন্যান্য মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়ে গেছেন। তথ্য পেয়েছেন গ্রামের বাড়িসহ ঢাকা ও সিলেটে নামে-বেনামে অনেক জায়গা-জমি ও গাড়িবাড়ির সন্ধান। যা সিরিজ আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে লুটপাটের বিষদ তালিকাও রয়েছে ওই টিমের হাতে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সিলেট জেলা পরিষদ কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় যে সব প্রকল্প প্রকৌশলী হাসিবের তত্বাবধানে বাস্তবায়িত হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশেই হয়েছে লুটপাটের মহোৎসব। অনেক প্রকল্পে কাজ না করিয়েই তার অনুগত ঠিকাদারের সাথে ভাগবাটোয়ারা করে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন, আবার অনেক প্রকল্পে সিডিউল মোতাবেক কাজ না করিয়ে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পুরো টাকা উত্তোলন করিয়ে এর ভাগও নিয়েছেন তিনি। এমন শত শত প্রকল্পের হাদীস পেয়ে গেছে বিজয়ের কণ্ঠ’র তদন্ত টিম।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিলেট নগরের প্রবেশদ্বার সুরমা মার্কেটের সামনে নাগরি লিপি সম্বলিত ‘নাগরী পয়েন্ট’ নির্মাণ প্রকল্পে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রকৌশলী হাসিব। আজ থেকে তিন বছর আগে জেলা পরিষদের ছাত্রবৃত্তি না দিয়ে যে টাকা লোপাট হয়েছে এর সিংহভাগ পেয়েছেন বদলী হওয়া জেলা পরিষদ সচিব ও প্রকৌশলী হাসিব। বিগত সালে কৃতিছাত্র-ছাত্রীর বৃত্তি প্রদানেও হয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি। অনেক ছাত্র ছাত্রীর নামে ভুয়া বাজেট করিয়ে টাকা লুপাটের নেপথ্যে ছিলেন প্রকৌশলী হাসিব।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, সিলেট জেলা পরিষদে অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী দুর্নীতি করতে না চাইলেও প্রকৌশলী হাসিবের প্রভাবে ও ভয়ে দুর্নীতি করতে বাধ্য হন তারা।

 

সিলেট জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদ অবশ্য বরাবরের মত দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে ডকুমেন্ট তলব করেন। কিন্তু তিনি জানেন না- ঘুষ দুর্নীতি কেউই ডকুমেন্ট দিয়ে করে না। তবে তদন্তের জালে আটকা পড়লে তা অবশ্য দিবালোকের ন্যায় পরিষ্ফুটিত হয়ে ওঠে।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর