দিরাইয়ে জলমহালের দাবিতে জেলেদের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৮

দিরাইয়ে জলমহালের দাবিতে জেলেদের মানববন্ধন

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শয়তানখালী ২য়খন্ড জলমহালটির ইজারা বাতিল করে তীরবর্তী প্রকৃত জেলেদের অনুকুলে ইজারা প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন কর্মসুচি ও জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতিগত জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন।

সোমবার সকাল ১১টায় দিরাই পৌর সদরের থানা রোডে জেলেদের গ্রাম হিসেবে পরিচিত চান্দপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে সহ¯্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করে।

জেলে সম্প্রদায়ের নেতা গৌরাঙ্গ চন্দ্র বর্মনের সভাপতিত্বে ও অরণ্য কিরণ বর্মনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেলে সম্প্রদায়ের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন কুমার রায়, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহজাহান সরদার, কৃষকলীগের আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, অমলেন্দু বর্মন, ইউপি সদস্য সুকেশ বর্মন, নীলমনি বর্মন, গোপী বর্মন, গীতা রানী বর্মন, রাইমনি বর্মন, খোকন বর্মন, জুলেখা বর্মণ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শয়তানখালী ২য়খন্ড জলমহালটির তীরবর্তী চান্দপুর গ্রামে বংশপরম্পরায় জেলেদের বাস। অত্যান্ত নিরিহ প্রকৃতির এই সম্প্রদায়ের একমাত্র আয়ের উৎস মৎস্য আহরণ, এর মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছে তারা। কালের পরিক্রমায় অধিকাংশ জলমহাল প্রভাবশালী ওয়াটার লর্ডদের করায়ত্বে চলে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়ে এ সম্প্রদায়ের লোকজন। মৎস্য আহরণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারী এ সম্প্রদায়ের লোকজনের কথা চিন্তা করে এলাকার সাবেক সাংসদ প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এ জলমহালটি চান্দপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে সরকারের রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে গ্রামবাসীকে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করার ব্যবস্থা করে দেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যাওয়ার পরও বিগত ২বছর নিয়মানুযায়ী রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে মৎস্য আহরণ করে আসছে। এবারও বর্তমান সাংসদ ড. জয়া সেনগুপ্তার উপস্থিতিতে উপজেলা জলমহাল নিয়ন্ত্রণ কমিটির সাধারণ সভায় এ জলমহালটির তীরবর্তী চান্দপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে ইজারা প্রদানের জন্য জেলা জলমহাল নিয়ন্ত্রণ কমিটির কাছে রেজুলেশনের মাধ্যমে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় স্থানীয় সাংসদসহ উপজেলা কমিটির সুপারিশকে অগ্রাহ্য করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা মৎস্যজীবি সমিতির নামে ইজারা প্রদান করা হয়। অথচ, মুক্তিযোদ্ধা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা, কেউই জলমহালের তীরবর্তী নয়, সমিতির সভাপতি গোষ্ঠলাল দাশ একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরীজিবি, তার ছেলে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের নামকরা চিকিৎসক। মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির নামে প্রভাব খাটিয়ে জলমহালটি ইজারা গ্রহণ করেছেন। এ খবর জানার পর হতাশ হয়ে পরে জেলেরা।

চান্দপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কমিশনার (রাজস্ব) সিলেট’র আদালতে ইজারা বাতিলের দাবিতে আবেদন করলে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মৃনাল কান্তি দেব গত ৩০-১০-১৮ ইং তারিখে ইজারা প্রদানের প্রতি স্থগিতাদেশ জারি করেন। স্থাগিতাদেশ প্রদানের পর থেকে প্রভাবশালী ঐ মহলটি চান্দপুর গ্রামের নিরিহ মৎস্যজীবিদের মৎস্য আহরণে বাধা প্রদানসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদান করে আসছে।

জলমহালটি প্রকৃত মৎস্যজীবি চান্দপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে ইজারা প্রদানের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, জলমহালটি অন্য কোন সমিতির নামে ইজারা প্রদান করা হলে এ গ্রামের সাধারণ জেলেদেরকে না খেয়ে মারা যেতে হবে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলসহকারে উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলেরা।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর