নগর ভবনে রিকশা শ্রমিকদের হামলা-ভাংচুর : আহত ৫

প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০২১

নগর ভবনে রিকশা শ্রমিকদের হামলা-ভাংচুর : আহত ৫

আব্দুল খালিক
সিলেটে সিটি করপোরেশন ভবনে হামলা চালিয়েছে নগরের ব্যাটারি চারিত রিকশা শ্রমিকরা। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মিছিল সহকারের নগরের ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে তারা নগর ভবনে প্রবেশ করতে চাইলে ভেতর থেকে মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে উত্তেজিত শ্রমিকরা বাহির থেকে নগর ভবনকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। জবাবে ভেতরে থেকে সিসিক কর্মচারীরাও ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। এসময় সিসিকের মালিকানাধীন গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় শ্রমিকরা। হামলায় সেবা নিতে আসা একজনসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

 

এর আগে বুধবার সকালে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে কোর্ট পয়েন্টসহ নগরের কয়েকটি এলাকায় অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযানে নামে সিসিক। অভিযানে বেশ কয়েকটি ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করা হয়।

 

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকেরা নগরের চৌহাট্টা থেকে জিন্দাবাজার হয়ে মিছিল নিয়ে নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় মূল ফটকের সামনে তারা মেয়র বিরোধী স্লোগান দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। সিলেট মহানগর পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও সদস্যরা তাদের বাঁধা দেন। ঘটনার খবরে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিসিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। বাহির থেকে মেয়রকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। জবাবে তাদের ছোঁড়া ইট সংগ্রহ করে ছুড়তে থাকেন সিসিক কর্মচারীরা। এসময় সিসিকের মালিকানাধীন গেইটের ভিতরে থাকা ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে শ্রমিকরা।

 

হামলার ঘটনায় নগর ভবনে সেবা নিতে আসা এক নাগরিকসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করছে সিসিক। তারা বলেন, সিসিক সংরক্ষিত কাউন্সিলর রেবেকা আক্তার লাকি’র স্বামি আব্দুল কাদের মালেকের মাথায় আঘাত লাগে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া সেবা নিতে আসা আরও ৪জন আহত হয়েছেন। সেই সাথে সিসিকের ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

 

এদিকে হামলার ঘটনায় নগর ভবনে বিকেল ৪টায় সিসিক কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরী সভা করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সভায় নগর ভবনে অতর্কিত হামলা এবং জানমালের ক্ষতির তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এবং ্এই হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

 

মেয়র বলেন, সিলেট মহানগরে ব্যাটারী চালিত অবৈধ রিক্সা এবং টমটম চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হলেও গোপনে মহানগরে এসব বাহন চলাচল করে। যা বন্ধে সিলেট সিটি কর্পোরেশন বারবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশও করেছে।

 

সভায় সিসিকের প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নিজ নিজ ওয়ার্ডে ব্যাটারী চালিত অবৈধ রিক্সা ও টমটম সম্পূর্ণভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়। এছাড়া নগরের বৈধ রিক্সা যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদেরকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে সময় বেঁধে দেয়া হয়।

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন- কাউন্সিলর রেজাউল হাসান লোদী, কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৌফিক বকস লিপন, কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিম অ্যাডভোকেট, কাউন্সিলর মো. ইলিয়াসুর রহমান, কাউন্সিলর মো. ছয়ফুল আমীন বাকের, কাউন্সিলর এস এম শওকত আমীন তৌহিদ, কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ, কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক, কাউন্সিলর মো. সিকন্দর আলী, কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান, সংরক্ষিত কাউন্সিলর রেবেকা সুলতানা ও রেবেকা আক্তার লাকী।

 

এর আগে গেলো ১৭ ফেব্রুয়ারি সিলেট নগরের চৌহাট্টায় সড়কের পাশ দখল করা অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গেলে সিসিক কর্মচারীদের সাথে সংঘর্ষে জড়ান শ্রমিকরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক চলে সংঘর্ষ। ভাংচুর করা হয় গাড়ি। আহত হন উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজনকে। আর অস্ত্রসহ আটক হন একজন। কিন্তু সে সংঘর্ষের প্রায় পাঁচ মাস পার হলেও সড়কের পাশ দখলমুক্ত করতে পারেনি সিসিক।

 

এদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা শহরে চলাচল নিষেধ। কিন্তু এসব রিকশার চালকরা হঠাৎ করে মিছিল নিয়ে সিটি করপোরেশনের ভিতর প্রবেশ করতে চাইলে সিসিকের নিরাপত্তাকর্মীরা বাঁধা দেন। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরি হয়। এসময় পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর