নগর ভবন-হকারদের চোর-পুলিশ খেলা

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২১

নগর ভবন-হকারদের চোর-পুলিশ খেলা

ফাইল ছবি


নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট নগর ভবন ও হকারদের এই চোর-পুলিশ খেলাটা অনেক পুরনো। এমন খেলায় দর্শকের ভ‚মিকায় রয়েছেন গোটা নগরবাসী। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ইতিপূর্বে নগর ভবন অনেকরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও কিছুতেই দমিয়ে রাখ যায়নি বেপরোয়া হকারদের। সর্বশেষ হকারমুক্ত নগর সাজাতে লালদিঘীপাড়ে হকার পুনর্বাসন করে নগর কর্তৃপক্ষ। হকারদের তালিকা করে তাদের নামে দোকান কোঠা বরাদ্দসহ সেখানে পুনর্বাসন করা হলেও বরাবরই তাতে নিরুৎসাহি ছিল হকাররা।

 

হকারদের দাবি ছিল- পুনর্বাসন স্থলে যাতায়াতের সুবিধার্থে বন্দর বাজারের সাথে তিনটি রাস্তা উন্মুক্ত করে দিতে হবে, নগর ভবন কর্তৃক প্রচারণা চালাতে হবে এবং সেখানে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করে হকার এলাকাকে আলোকিত করতে হবে। কিন্তু নগর ভবন তা করেনি।

 

পুনর্বাসন স্থল থাকা সত্বেও নগরের বিভিন্ন সড়কে হকারদের বসা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের উর্দ্ধেক হয়। এসময় হকাররা জানায়, যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ক্রেতারা পুনর্বাসনস্থলে যেতে চায়নি। সারা দিন দোকান খুলে বসে থাকার পরও তাদের বৌনিবাট্টা হয়নি। এ অবস্থায় তাদেরকে অনাহারে দিন কাটাতে হয়। পেটের দায়ে তারা লুকিয়ে নগরের বিভিন্ন সড়কে বসে ব্যবসা করছেন।

 

জানা যায়, হকার পুনর্বাসনের পরও নগরে বিভিন্ন দোকানের সামনা দখল করে ব্যবসা করতে দেখা যায় দোকানিদের। এমন অভিযোগে প্রতিদিনই নগরের কোনো না কোনো স্থানে অভিযান চালায় নগর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

 

সর্বশেষ সোমবার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে নগরের ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করতে অভিযানে নামেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় মেয়রকে দেখেই দৌঁড়ে পালান হকাররা। এসময় নগরের বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজারে ফুটপাত দখল করে পণ্য বিক্রিকারী হকারদের হটান মেয়র আরিফ।

 

সিলেট নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে চলতি বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) থেকে বন্দর-চৌহাট্টা পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতে হকার বসা নিষিদ্ধ করে সিলেট সিটি করপোরেশন ও মহানগর পুলিশ। এ সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত এবং এ সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে গত জানুয়ারি মাসে নগরের লালদীঘিরপাড়স্থ খালি জায়গায় প্রায় ১২শ’ হকারকে স্থানান্তর করে সিসিক ও এসএমপি কর্তৃপক্ষ।

 

বন্দর-চৌহাট্টা সড়কে খানিক দূর দূর ‘হকারম্ক্তু এলাকা’ লেখা সাইনবোর্ডও গেড়ে দিয়েছে সিসিক। এতকিছুর পরও পুরোপুরিভাবে হকারদের নেয়া যাচ্ছে না লালদীঘিরপাড় মাঠে। যাদের উদ্দেশে ‘হকারম্ক্তু এলাকা’ বা ‘রাস্তা ফুটপাতে বেচাকেনা নিষেধ’ লেখা রয়েছে তারা এসবের তোয়াক্কা করছেন না। প্রথম কিছুদিন তারা রাস্তায় না বসলেও গত কয়েকদিন থেকে আবারো তারা ফুটপাত দখল করে বসতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকায় এমন দৃশ্য বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

 

বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিও ঠেকাতে পারছে না হকারদের। অসতর্ক ক্রেতারাও করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ এই সময়ে ফুটপাতে ভিড় করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত করছেন কেনাকাটা, মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর