পূর্বসূরীদের অবমূল্যায়ন আমরা অকৃতজ্ঞ

প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

পূর্বসূরীদের অবমূল্যায়ন আমরা অকৃতজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পূণ্যভূমি সিলেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন এ মাটির অনেক কৃতি সন্তান। প্রয়াত ও জীবিত কীর্তিমান পুরুষের নাম পর্যন্ত ভুলে যেতে বসেছেন তাদের উত্তরসূরী স্থলবর্তী ও পরবর্তীরা। সিলেটর মাটি ও মানুষের পরলোকগত এবং বিদ্যমান এই অকুতভয় গুণীজনদের একজন হচ্ছেন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই বারের সাবেক অর্থমন্ত্রী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি এখনো সরকার দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পদে অধিষ্টিত। সিলেটের উন্নয়নে যার ভূমিকা অতুলনীয় ও অপরিসীম। আজকের সিলেট নগরের রাস্তাঘাটের যে চাকচিক্য, আধুনিক স্টেডিয়াম, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, নগরের খাল-নালা উদ্ধার-খনন, জলাশয়গুলোর উন্নয়ন ও যৌলুস বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সিলেট কেন্দ্রীয় কারগার প্রভৃতি সিলেট উন্নয়নে মেঘাপ্রকল্প বাস্তবায়নে জননেতা আবুল মাল আবদুল মুািহতের কোন জুড়ি নেই। একটি সুষ্ঠু ও সুনিপুন পরিকল্পনার মধ্যদিয়ে তিনি এগিয়ে নিয়েছেন সিলেটের মাটি ও মানুষের উন্নয়ন। যদিও বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি বর্তমান সরকারের কোন পদপদবী নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন, তবুও সিলেটের উন্নয়নে তাঁর আন্তরিকতা, তাঁর দিক নির্দেশনা মেনে নিচ্ছেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
সিলেটের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অসমাপ্ত পরিকল্পনার একটি ছিল সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করণ। দীর্ঘ ১০ বছর মন্ত্রীত্বের আমলে তার উন্নয়ন পরিকল্পনার সর্বশীর্ষে ছিল এই একটিই। তিনি বারবার সরকারের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে এ ব্যাপারে উদ্ভুদ্ধ করে আসছিলেন, যার বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে একনেকের সভায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার মধ্যদিয়েই। মঙ্গলবার একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের অনুমোদন দেন। এ অনুমোদনের মধ্যদিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সর্ববৃৎ পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
এদিকে একনেকের সভায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করণ প্রকল্প অনুমোদনের পরপরই সিলেটে অভিনন্দন বার্তার বন্যা বইতে শুরু করে। সরকার দল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ছাড়াও সহযোগী অনেক সংস্থা-সংগঠন গণমাধ্যমে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা,পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে আবদুল মোমেন ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আবদুল মান্নানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে পৃথক পৃথক বার্তা পাঠিয়েছেন এবং গণমাধ্যমে তা প্রকাশও পেয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্বশীল কোন নেতা ও কর্তাব্যক্তি ভুলেও সিলেট উন্নয়নের প্রধান রূপকার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নামটা পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। অথচ, তিনিই হচ্ছেন সিলেট উন্নয়নে মেঘা প্রকল্পের রূপকার, তিনিই হচ্ছেন ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করণ প্রকল্পেটর প্রথম পরিকল্পনাকারী। ছোট্ট একটি অভিনন্দন বার্তা প্রদানে পূর্বসূরীদের প্রতি রাজনৈতিক উত্তরসূরী নেতা ও কর্তা ব্যক্তিদের এহেন কার্পণ্য ও অকৃতজ্ঞ মনোভাব দলের রাজনৈতিক অঙ্গণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে তৃনমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন- “কার হগদা খাওগো বান্দী ঠাকুর ছিন না” সিলেটে বহুল প্রচলিত এ প্রবাদটি ফুটে উঠেছে আমাদের বর্তমান নেতা ও কর্তাব্যক্তিদের হীনমন্যতা ও অকৃতজ্ঞতার মধ্যদিয়ে। অথচ বর্তমান প্রজন্মের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব আমাদের পূর্বসূরী রাজনীতিবিদ মনীষীদেরই অবদান। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম সব সময় পূর্বসূরীদেও অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে চলেছে, যা দলের এমনকি সিলেটের আপামর জনসাধারণের কল্যাণ বয়ে আনছে না।
এ বিষয়ে আলাপকালে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বিজিত চৌধুরী বলেন, সিলেটের উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আন্তরিক। তাঁর এ আন্তরিকতার বহি:প্রকাশ ঘটেছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করণ প্রকল্প অনুমোদনের মধ্যদিয়ে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করণের মূলে রয়েছে সাবেক দুইবারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নিরলস প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনা। তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক পূর্বসূরীদের সবসময় মূল্যায়ন করতে হবে। তাঁদের যথাযথ মর্যাদা দিতে না পারলে আমরা অকৃতজ্ঞদের তালিকাভুক্ত হতে বাধ্য, যা আদৌ কাম্য হতে পারে না।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর