বালাগঞ্জের অবহেলিত পশ্চিমাঞ্চলে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্টার দাবী

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

বালাগঞ্জের অবহেলিত পশ্চিমাঞ্চলে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্টার দাবী

বালাগঞ্জ সংবাদদাতা
বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। অবহেলিত এই ইউনিয়নে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাবে কোমলমতি শিশুরা মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকার কথা। বিশাল আয়তন এবং জনসংখ্যার অনুপাতে এই ইউনিয়নে তিনটি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেখানে একটি মাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় দিয়ে এঅঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষার চাহিদা পূরণ করাতো দূরের কথা বরং অপুর্ণতাই থেকে যাচ্ছে। এতে ক্রমেই ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নিত করার বিষয়ে আবেদন করা হলেও সেটিরও কোনো অগ্রগতি হচ্ছেনা।

স্থানীয়দের উদ্যোগে বিগত দিনে এই এলাকায় একটি নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্টা করা হয়, কিন্তু এক সময় সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। ওই বিদ্যালয়টির বিষয়ে খুঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামে ‘হামছাপুর নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নামে এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রায় এক একর ভুমির উপর একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হয়। কিন্তু বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টার ৫-৬ বছর পর ১৯৯০ সালের দিকে সেটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং ভবন সংকটের কারণে বিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। তৎকালীন সময়ে স্কুলের জন্য নির্মাণাধীন ভবনের লিন্ডার-পিলারগুলো এখন কালের সাী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। বিদ্যালয়টি পুন:প্রতিষ্টিত হলে এই এলাকার মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভুমিকা রাখবে। এতে পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন ও বোয়ালজুড় ইউনিয়নের শিার্থীরা উপকৃত হবেন। বিদ্যালয়টি চালু করার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

হামছাপুর গ্রামের শাহআলম সজিব, ওই বিদ্যালয়ের ভুমি দাতা পরিবারের সদস্য ইয়াহিয়া সুজন ও মখদ্দুছ মিয়া বলেন, বিদ্যালয়টি চালু করার লক্ষ্যে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা পেলে বিদ্যালয়টি দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে।

বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অত্র ইউনিয়নের বাসিন্দা মাওলানা সৈয়দ আলী আসগর বলেন, এই ইউনিয়নে নতুন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার খুবই প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই ‘হামছাপুর নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি’ পুন:প্রতিষ্টাকরণে এলাকাবাসীর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও এগিয়ে আসতে হবে। এই বিদ্যালয়টি চালু হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীসহ পাশ্ববর্তী রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবেন।

বালাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম বলেন, পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে নতুন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এখানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা সহজেই মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। এতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাবে। স্থানীয়রা হামছাপুর গ্রামের ওই বিদ্যালয়টি পূনরায় চালু করতে চাইলে পাঠদানের অনুমতি প্রদানসহ সাধ্যমত সহযোগীতা করা হবে।

বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আবদুল হক বলেন, হামছাপুর গ্রামের ওই বিদ্যালয়টি চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর