বিয়ানীবাজারে আজমল হত্যার দায়ে দুই আসামির মৃত্যুদন্ড

প্রকাশিত: ৭:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১

বিয়ানীবাজারে আজমল হত্যার দায়ে দুই আসামির মৃত্যুদন্ড

রফিক আহমদ
বিয়ানীবাজারের জলঢুপে আজমল আলী হত্যার দায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার আসামিদের উপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালত, সিলেটের বিচারক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া এ রায় প্রদান করেন।

 

বিকেলে ‘বিজয়ের কণ্ঠ’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালত, সিলেটের রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জসিম উদ্দিন।

 

তিনি বলেন, আসামি রুহেল আহম্মদ ওরফে কালা ও অপু দাস ওরফে জাকারিয়া আহমদ-এর বিরুদ্ধে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩০২ এবং ৩৯৭ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের প্রত্যেককে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্থ ক্রমে মৃত্যু দণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে এবং ৩৯৭ ধারায় দোষী সাব্যস্থ ক্রমে আসামিদের প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, তদুপরি ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।

 

দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার কুতুব নগর গ্রামের আব্দুল খালিকের পুত্র রুহেল আহম্মদ ওরফে কালা(১৯। যিনি বর্তমানে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানার জলঢুপ উত্তর পাড়িয়াবহর গ্রামের বাসিন্দা। অপর আসামির নাম অপু দাস ওরফে জাকারিয়া আহমদ(২৫)। তিনি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার গুলসা গ্রামের বিজয় কান্ত দাসের পুত্র। পরবর্তীতে যিনি ধর্মান্তরিত হয়ে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানার জলঢুপ বড়গ্রামের জামাল উদ্দিনকে ধর্মপিতা মান্যকরে সেখানে বসবাস করেন।

 

রায়ে ফৌজদারী কার্যবিধি ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকরেরও নির্দেশ প্রদান করেন আদালত। সেই সাথে আসামিদের ইতিপূর্বে হাজত বাসকাল ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫-এ ধারা মতে প্রদত্ত কারাদন্ডের মেয়াদ কর্তিত হবে মর্মে রায় প্রদান করেন। পাশাপাশি আসামিদের বিরুদ্ধে গঠিত দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৯৪ এবং ৪১১ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে ওই ধারার অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ গ্রামের আজমল হোসেনের ঘরে ঢুকে প্রাণনাশের উদ্দেশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে উপর্যপুরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে আসামিরা। এসময় তারা ঘরে থাকা নগদ অর্থসহ তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত আজমল হোসেন ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। এ ঘটনায় তার জামাতা বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় (০৬, ০৮-০২-২০১৬) মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

সর্বশেষ ২৪ খবর