বিয়ের কথা বলে সিলেটে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২১

বিয়ের কথা বলে সিলেটে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জের এক নারীর সাথে ফোনে পরিচয় হয় সিলেটের জামেদ আহমদ জাবেদের (৩৬)। এরপর থেকেই দু’জন প্রায়ই মোবাইলে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে সেই সম্পর্ককে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। প্রেমিকের প্রস্তাবে বিয়ের জন্য সিলেটেও আসেন ওই নারী। কিন্তু প্রেমিক জাবেদ তাকে বিয়ে না করে চার বন্ধুকে নিয়ে পালাক্রমে টানা তিনদিন ধর্ষণ করে ওই নারীকে। পরে টাকার বিনিময়ে অন্য আরও পাঁচ জনের নিকট তাকে বিক্রিয় করে দেন। ওই পাঁচজনও তাকে রাতভর ধর্ষণ করে সকালে প্রস্থান করে। এমন অভিযোগে মামলা দায়েরের পর ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

ওই নারীর অভিযোগ, তাকে সিলেটের একটি চা বাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে ৯ জন মিলে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। বুধবার এ অভিযোগে সিলেটের বিমানববন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ওই নারীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় সিলেটের জামেদ আহমদ জাবেদের (৩৬)। আলাপের এক জাবেদ তাকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে প্রথমে ওই নারী আপত্তি জানালেও পরে জাবেদের কথায় বিশ্বাস করে রাজী হন।

 

জাবেদের কথায় গত ১০ জুলই সন্ধ্যায় বাড়ি ছেড়ে তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার হুমায়ন রশিদ চত্বরে আসেন। সেখান থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জাবেদ তাকে খাদিমনগর বুরজান চা-বাগানের মরাকোণা টিলার উপর একটি ছাউনি ভিতর নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ছিলেন ফয়সল আহমদ (২২), রাসেল আহমদ (২৪), জামিল আহমদ (২২) নামে তিনজন। এই চারজন ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে উপর্যোপুরি ধর্ষণ করে। টানা তিন দিন তারা চারজন মিলে তাকে ধর্ষণ করেন। জাবেদ তার মোবাইল ফোনসহ ব্যাগে ভর্তি কাপড় ও দরকারী কাগজপত্রও ছিনিয়ে নেন।

 

এজাহারে ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, ১৩ জুলাই সকাল অনুমান ৬ টার দিকে রুবেল (২৫), ইমাম (২৫), ফারুক (২৩), মো. মোশাহিদ আহমদ (২৭) ও আবুল (২৬) নামে পাঁচ ব্যক্তি সেখানে যান। তখন জাবেদসহ অন্যরা ওই পাঁচ জনের কাছে তাকে সমজিয়ে দিয়ে চলে যান। এরপর ওই পাঁচ ব্যক্তি পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।

 

ধর্ষণের পর মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে তাকে ফেলে সবাই চলে গেলে চা বাগানের ওই নির্জন স্থান থেকে বেরিয়ে আসেন ওই নারী। এরপর রাস্তায় একজন লোকের সহায়তায় নিজের খালাতো বোনকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানান।

 

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে বিমানবন্দর থানায় এসে ওই নারী মৌখিক অভিযোগ দেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে বুরজান চা বাগান এলাকা থেকে জামেদ আহমদ জাবেদ ও মো. মোশাহিদ আহমদকে আটক করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফয়সল আহমদ ও রাসেল আহমদকে আটক করা হয়।

 

আশরাফউল্লাহ তাহের বলেন, ধর্ষণের শিকার নারী বুধবার বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামমলায় এই ৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অভিযুক্ত বাকী ৫ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, অভিযোগকারী নারীকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর