মিরপুরে চালকের আসনে বাংলাদেশ : তাইজুলের ৫ উইকেটের হ্যাট্রিক

প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

মিরপুরে চালকের আসনে বাংলাদেশ : তাইজুলের ৫ উইকেটের হ্যাট্রিক

ক্রীড়াকণ্ঠ ডেস্ক
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩০৪ রান তুলেছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। মিডল অর্ডারে দারুণ প্রতিদ্বন্ধীতার আভাস দিলেও শেষ বিকেলে ধস নিমেছে তাদের ব্যাটিংলাইনআপে। বোলার চাতার চোটের কারণে ব্যাট করতে নামতে পারবেন না তাই ইনিংস গুটিয়ে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। এর মধ্য দিয়ে এই টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ। ইচ্ছে করলে ২১৮ রান পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়েকে ফলোঅন করাতে পারে বাংলাদেশ।

আগের দিনের ১ উইকেটে ২৫ রান নিয়ে মঙ্গলবার ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। সকাল থেকেই একের পর এক উইকেট তুলে নিতে থাকে বাংলাদেশী বোলাররা। বিশেষ করে তাইজুল ইসলাম ছিলেন সফরকারী ব্যাটসম্যানদের কাছে প্রথম টেস্টের মতোই দুর্বোধ্য। স্কোর বোর্ডে ১৩১ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারায় মাসাকাদজার দল, তার মধ্যে চারটিই তুলে নেন এই বামহাতি স্পিনার।

তবে ৬ষ্ঠ উইকেটে পাল্টা প্রতিরোধ গড়েন ব্রেন্টন টেইলর ও পিটার মুর। দুজনে গড়েন ১৩৯ রানের জুটি। দলীয় ২৭০ রানে মুর ব্যক্তিগত ৮৩ রানে আরিফুল হকের বলে আউট হলেও টেইলর তুলে নেন সেঞ্চুরি।

তবে এই প্রতিরোধ বেশিণ ধরে রাখতে পারেনি পরের ব্যাটসম্যানর। দলীয় ২৯০ ও ব্যক্তিগত ১১০ রানে মেহেদী মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে টেইলর ফিরে গেলে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। পরবর্তী ২৪ রানের মধ্যে জিম্বাবুয়ে হারিয়েছে আরো ৩ উইকেট। শেষ বেলায় তাইজুল চাকাভার উইকেট তুলে নিয়ে স্পর্শ করেন আরেকটি ৫ উইকেটের মাইলফলক। সেই সাথে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। জিম্বাবুয়ের দলীয় রান ১০ উইকেটে ৩০৪ রান।
তাইজুলের ৫ উইকেটের হ্যাটট্রিক:

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের কোনো ইনিংসেই হাসেনি ব্যাটসম্যানদের ব্যাট। কিন্তু দুই ইনিংসেই বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন তাইজুল ইসলাম। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি এই স্পিনার দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নেন ৫ উইকেট।

মিরপুর টেস্টেও অব্যাহত থাকল সেই ধারা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসেও বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন তাইজুল। একাই তুলে নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ৫ উইকেট। ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে স্পর্শ করেছেন অনন্য এক মাইফলক।

তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টানা তিন ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তাইজুল। তার আগে এই কৃতিত্ব রয়েছে কেবল এনামুল হক জুনিয়র ও সাকিব আল হাসানের।

শুরুটা করেছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫২২ রানের জবাবে খেলতে নেমে স্কোরকার্ডে ২০ রান যোগ করতেই ভাঙে জিম্বাবুয়ের উদ্বোধনী জুটি। মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খোলা বাঁহাতি এই স্পিনার এক এক করে তুলে নেন আরও ৪ উইকেট।

এর মধ্যে তৃতীয় দিনের প্রথম ব্রেকথ্রুও এসেছে তাইজুলের হাত ধরে। এরপর রেজিস চাকাভাকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসের ইতি টানার পাশাপাশি পূর্ণ করেন নিজের পঞ্চম উইকেট। সব মিলিয়ে ৪০.৩ ওভারে ১০ মেডেনসহ ১০৭ রান খরচ করেন তাইজুল।

বাংলাদেশের পে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার প্রথম কৃতিত্বটা এনামুল হক জুনিয়রের। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপে টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নামেন এনামুল। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসেই ৪৫ রান বাঁহাতি স্পিনার তুলে নেন প্রতিপরে ৬ উইকেট। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯৫ রানে ৭ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রান খরচ করে তুলে নেন আরও ৫ উইকেট।
২০০৮ সালে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ৫ উইকেটের হ্যাটট্রিক করেন সাকিব আল হাসান। তবে এ জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারকে খেলতে হয়েছিল তিন ম্যাচ।

২০০৮ সালে দণি আফ্রিকা সফরে দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের সঙ্গী হয় ইনিংস ব্যবধানে হার। কিন্তু একমাত্র প্রাপ্তি ছিল দুই ম্যাচেই সাকিবের ৫টি করে উইকেট। ব্লুমফন্টেইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৩০ রানের বিনিময়ে ৫টি উইকেট তুলে নেন সাকিব। সেঞ্চুরিয়নে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৯৯ রানের বিনিময়ে নেন ৬ উইকেট।

এরপর দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসেই ৭০ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন সাকিব। আর তাতে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ৫ উইকেটের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাকিব। ১০ বছর পরে আবার এই কীর্তি গড়লেন তাইজুল।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর