মুশফিকের অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরি : স্বস্তির পরশ বাংলাদেশের

প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৮

মুশফিকের অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরি : স্বস্তির পরশ বাংলাদেশের

ক্রীড়াকণ্ঠ ডেস্ক
২০০ ছাড়ানো যে কত কঠিন, সেটা শেষ আট ইনিংসে বুঝেছে বাংলাদেশ। দিক হারিয়ে বারবার ২০০’র আগেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস। কিন্তু ৫০০ রানও যে নিমেষেই ছাড়িয়ে যাওয়া যায়, সেটা মনে করিয়ে দিলেন ডাবল সেঞ্চুরি করে রেকর্ড পাতা ওলট-পালট করে দেওয়া মুশফিকুর রহিম। সিলেট টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩১২ রান করা দলই হেসেখেলে করে ফেলল ৫২২ রান। সেটাও সাত উইকেটেই।

রাজত্ব কায়েম করা ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বিপে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনটাও বাংলাদেশের হয়ে কথা বলছে। জিম্বাবুয়ের এক উইকেটে ২৫ রান তোলার অংশটুকু বাদ দিলে প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও কেবল বাংলাদেশের শাসন চোখে পড়বে। মুমিনুল হক তার অংশটুকু প্রথম দিনেই শেষ করেছেন। ১৬১ করে রান বড় সংগ্রহের ভিত গড়ার অন্যতম রুপকার ছিলেন তিনি। মুমিনুল যে সঙ্গীকে উইকেটে রেখে এসেছিলেন, সেই মুশফিক বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের বাকিটা সময় রাঙিয়েছেন নিপুণ ব্যাটিংয়ে।

অপরাজিত থাকার পাশাপাশি উইকেটরক এই ব্যাটসম্যান অনেক রেকর্ড সঙ্গে নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। তার অনবদ্য ২১৯ রানের হার নামা ইনিংসটি টেস্টে বাংলাদেশের পে সর্বোচ্চ। এ পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন ২১৭ রান করা সাকিব আল হাসানকে। দ্বিতীয়বারের মতো ২০০ ছাড়ানো প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানও তিনি। গন্ডিটা অবশ্য বাংলাদেশেই আটকে নেই, ১৪১ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র উইকেটরক ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন মুশফিক।

সাত উইকেটে ৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করার পূর্বাভাস অবশ্য ইনিংস শুরুর সময়ে পাওয়া যায়নি। ২৬ রানেই হারাতে হয়েছিল তিন উইকেট। দিকহারা দলের হাল ধরে নিমেষেই সব ভুলিয়ে দেন প্রথম দিন চতুর্থ উইকেটে রেকর্ড ২৬৬ রানের জুটি গড়া মুমিনুল-মুশফিক। শেষ বেলায় দ্রুত দুই উইকেট পড়লেও পাঁচ উইকেটে ৩০৩ রান তোলার স্বস্তি নিয়ে দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ।

প্রথম দিনই টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়া আরেক ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দ্বিতীয় দিনে আরও সাবলীল শুরু করেন তিনি। এই জুটি থেকে আসে ৭৩ রান। পুরো টেস্ট মেজাজে ১১০ বলে ৩৬ করা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ সতীর্থের সুরে সুর মেলাতে পারেননি। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

এরপর আরিফুল হকের দ্রুত বিদায়ে চাপেই পড়ে যায় বাংলাদেশ। যদিও ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকের সঙ্গে যোগ দিয়ে খুব সহজেই সব চাপ জয় করে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৪৪ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ার পথে মুশফিকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রানচাকা ঘুরিয়েছেন তরুণ এই অলরাউন্ডার। দারুণ ব্যাটিংয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করা মিরাজ অপরাজিত থাকেন ৬৮ রানে।

মুমিনুল সম্ভাবনা জাগিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি না করতে পারলেও মুশফিকের দৃঢ়চেতা মনোভাব তাকে পৌঁছে দিয়েছে স্বপ্নের ঠিকানায়। ব্যাট হাতে গড়া এসব অর্জন যে অনেক বড়, সেটা হয়তো আরও ভালোভাবে অনুধাবন করতে শিখে নিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটিং ভরসা। তার প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গে এই ইনিংসটির তুলনা খুঁজতে গেলে খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না।

শ্রীলঙ্কার বিপে ২০০ রানের সেই ইনিংসটি খেলতে মুশফিকের খরচা ছিল ৩২১ বল। চার ছিল ২২টি আর ছক্কা একটি। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপে হার না মানা ২১৯ রান করতে ১০০ বল বেশি অর্থাৎ ৪২১ বল খেলেছেন তিনি। বল বেশি খেলেছেন আবার ১৯ রান বেশিও করেছেন। কিন্তু ছক্কার সংখ্যা সমান হলেও চারের সংখ্যা কমে এসেছে। ১৮টি চার মেরেছেন।

মুশফিকের সাবলীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ইনিংসও হয়ে উঠেছে সৌম্য-সুন্দর। ড্রেসিংরুমে বইছে স্বস্তির হাওয়া। অন্যদিকে বল হাতে হতাশ থেকে যাওয়া জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। দ্বিতীয় দিনশেষে মিরপুর টেস্টের লাগাম তাই বাংলাদেশের হাতেই।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর