রাত পোহালেই হবিগঞ্জসহ দেশের ৩০ পৌরসভায় ভোট

প্রকাশিত: ১১:২৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

রাত পোহালেই হবিগঞ্জসহ দেশের ৩০ পৌরসভায় ভোট

বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি (রোববার) হবিগঞ্জসহ দেশের ২০ জেলায় পঞ্চম ধাপে ৩০ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। এ সব পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

 

ইসির যুগ্ম-সচিব (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘চতুর্থ ধাপে ২০ জেলার ৩০ পৌরসভায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভোটের সব ধরনের প্রচার শেষ হয়েছে। নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।’

 

এই ৩০ পৌরসভা হলো: চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই, বারইয়ারহাট ও রাংগুনীয়া; চাঁদপুর জেলার মতলব ও শাহরাস্তি; লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর; ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর; কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব; জামালপুর জেলার ইসলামপুর, জামালপুর সদর, মাদারগঞ্জ; ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল; যশোর জেলার কেশবপুর; ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ ও মহেশপুর। ভোলা জেলার ভোলা সদর ও চরফ্যাশন, মাদারীপুর জেলার মাদারীপুর সদর ও শিবচর। মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর; গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ; বগুড়া জেলার বগুড়া সদর; রাজশাহী জেলার চারঘাট ও দূর্গাপুর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল; জয়পুরহাট জেলার জয়পুরহাট সদর; হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জ সদর; রংপুর জেলার কাউনিয়া ও হারাগাছ। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পৌরসভা।

 

এদিকে আমাদের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি আখলাছ আহমদ প্রিয় জানান, রোববার সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ইভিএমে অনুষ্ঠিত হবে। চলবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে বিজিবি, পুলিশ, আনসার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গড়ে তোলা হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়।

 

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের ২৪ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৬ জন নির্বাহী ও একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ স্থরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করবেন ৬৭৩ জন পুলিশ সদস্য, ১২০ জন বিজিবি, ৫ প্লাটুন র‌্যাব ও ২১৬ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লা, জেলা নির্বাচন অফিসার সাদেকুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমেনা খাতুন।

 

ইতোমধ্যে নির্বাচনের ভোট গ্রহণে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বিকাল থেকেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিসার।

 

এবার পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। আর বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জেলা যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম, সতন্ত্র প্রার্থী নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে মিজানুর রহমান মিজান, হাত পাখা প্রতীকে শামসুল হুদা, মো. বশিরুল আলম (কাওছার) মোবাইল ও গাজী মো. পারভেজ হাসান জগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া ৯ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ প্রার্থী প্রতিদ্বদ্বিতা করবেন। হবিগঞ্জ পৌরসভার মোট ভোটার ৫০৯০৩ জন এর মধ্যে ২৫২৮৩ জন পুরুষ এবং ২৫৬২০ জন নারী।

 

ইসি সূত্র জানায়, পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য পুলিশের ১০০টি মোবাইল ও ৩০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ১০০টি ব্যাবের মোবাইল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রত্যেক পৌরসভায় গড়ে দুই প্লাটুন বিজিবি ও উপকূলীয় এলাকায় প্রতি পৌরসভায় এক প্লাটুন কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ পৌরসভাগুলোতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে অতিরিক্ত র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 

পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের জন্য গত ১৯ জানুয়ারি ৩১টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করে ইসি। পরে যশোর ও জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন হাই কোর্ট ও ইসির নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও আগের ধাপের সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচন এই ধাপে যুক্ত হয়। চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভায় সব পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় এখানে ভোটের প্রয়োজন হবে না। ফলে আগামীকাল ৩০টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

ইসি সূত্র জানায়, পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৩০ পৌরসভায সাধারণ ওয়ার্ড ৩০০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১০০টি। মোট ভোটার ১৪ লাখ ১৪ হাজার ২৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৭ হাজার ৭৭৫ জন, নারী ভোটার ৭ লাখ ২৭ হাজার ২৯৭ জন।৩০ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ১০০ জন, সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১ হাজার ৩১৮ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ৩৬৬ জন।

 

এখন পর্যন্ত ছয় ধাপে পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে কমিশন। এরইমধ্যে চার ধাপের পৌরসভা নির্বাচন সম্পৃন্ন হয়েছে। আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপের ৩০টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে। এর আগে প্রথম ধাপে ২৪টি পৌরসভায় গত ২৮ ডিসেম্বর এবং গত ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি পৌরসভা, গত ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে ৬৩টি পৌরসভায় এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপের ৫৫ পৌরসভা ভোট হয়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপের ৩০ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে।

 

উল্লেখ্য বর্তমানে দেশে ৩২৯টি পৌরসভা রয়েছে। এরইমধ্যে পাঁচ ধাপে ২৩৪টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্য চার ধাপে ২০১টি পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৫.৬ শতাংশ।

 

গত ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং গত ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং চতুর্থ ধাপের পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৬৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর