৫৬ বছরেও খনন হয়নি সম্ভাবনাময় ভ্রমণ স্থান আমলশিদ ত্রিমোহনা

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২১

৫৬ বছরেও খনন হয়নি সম্ভাবনাময় ভ্রমণ স্থান আমলশিদ ত্রিমোহনা

মো. হাবিবুর রহমান
আধ্যাত্মিক জেলা হিসাবে সিলেটের সুনাম দীর্ঘদিনের। ইদানীং পর্যটন শিল্পেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির এই জেলা। নানা সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভ‚মিগুলো। একটা সময় কেবলমাত্র জাফলং, মাধবকুন্ড আর সিলেটের চা বাগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে অনেক বিস্তৃত হয়েছে এই এলাকার পর্যটনশিল্প। রাতারগুল, বিছনাকান্দি, সাদাপাথর, লালাখালের সাথে আরেকটি নতুন নাম যুক্ত হতে পারে জকিগঞ্জ থানার বারঠাকুরী ইউনিয়নের আমলশিদ ত্রিমোহনা নামক স্থান।

 

ভারতের করিমগঞ্জ জেলার বরাক নদের দুটি শাখা হচ্ছে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদী। এদের মিলনস্থল হচ্ছে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার আমলশিদ এলাকা। এই সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর মাধ্যমেই মূলত সিলেট বিভাগের প্রায় ১০০টি নদ-নদীতে পানি প্রবাহিত হয়।

 

এই তিনটি নদীর মিলনস্থল আমলশিদ ত্রিমোহনা নামে পরিচিত। মনোমুগ্ধকর অপরূপ দৃশ্যের দেখা পাবেন সেখানে গেলে, তিনটি নদীর মধ্যখানে দ্বীপের মতো মাথা উঁচু করে আছে একটি বালুচর। স্থানীয়রা প্রায়ই নৌকা করে সেখানে ঘুরে আসেন, শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেটে চলে যাওয়া যায় অনায়াসে।

 

এদিকে, নদীর পাড় ধরে কিছু দূর হাটলেই ভারতের সীমান্ত চোখে পড়বে। নদীরপাড়ে বয়ে চলা স্নিগ্ধ বাতাস আর নয়নাভিরাম দৃশ্য প্রাণে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। বরাক নদের পানি সরাসরি কুশিয়ারা নদীতে মিশছে।

 

অন্যদিকে বেশ খানিকটা ডানে মোড় নিয়ে বরাকের পানি সুরমা নদীতে গিয়ে মিশছে। কুশিয়ারায় পানির তীব্র স্রোতোধারা থাকলেও সুরমায় তা একেবারেই স্থির। এই ত্রিমোহনার সৌন্দর্যের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীর বুকে গড়ে ওঠা ছোটবড় অনেকগুলো চর। পানিপ্রবাহে মূলত বাধা দিচ্ছে টিলাসদৃশ চরগুলো। দেশের অন্যতম দীর্ঘ সুরমা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ কিলোমিটার। নদীর উৎসমুখ জকিগঞ্জের আমলশিদ থেকে সিলেট পর্যন্ত এ নদীর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। পানির স্রোত না থাকায় গত দুই দশকের ব্যবধানে এ দূরত্বের অন্তত ১২ কিলোমিটার অংশে ৩৫টি ছোট-বড় চর জেগেছে। শুষ্ক মৌসুমে সুরমায় ৫ শতাংশও পানি প্রবাহিত হয় না। সর্বশেষ ১৯৬৫ সালে খনন করা হয়। তারপর কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলে তা আর হয়ে উঠেনি। এসব চর অপসারণের পাশাপাশি নদী খনন করা না হলে শিগগিরই এটি মৃতপ্রায় নদীতে পরিণত হবে। নদী খনন করে স্বাভাবিক স্রোতধারা ফিরিয়ে আনতে পারলে নদীতে যেমন প্রাণ ফিরে আসবে তেমনি স্থানীয় খেটেখাওয়া মানুষদের জীবিকার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। দেশে বিদেশের দশনার্থীদের নজর কাড়তে পারে আমলশিদ ত্রিমোহনা।

 

পর্যটকদের সুবিধার্থে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় দর্শনীয় স্থানটি এখনো লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছে।

 

পর্যটকদের সুবিধার্থে স্থানীয় এবং এলাকার কিছু সচেতন প্রবাসীদের অর্থায়নে একটি দৃষ্টিনন্দন অত্যাধুনিক তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু হবে কিছু দিনের মধ্যে, যাতে করে দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষজন সহজেই জায়গাটিতে চিনতে পারেন। ওই এলাকার তরুণ সমাজকর্মী ইফতেখার আহমেদ মনজু আশা প্রকাশ করেন বিছনাকান্দি রাতারগুল লালাখালের মতোই একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পষ্ট হতে পারে এই আমলশিদ ত্রিমোহনা, সুন্দর মনোহর প্রাকৃতিক দৃশ্যের সমাহার অত্যন্ত নিরাপদ পরিবেশ এবং এলাকার মানুষের আন্তরিকতা এর মূল কারণ।

 

আমলশিদ যাওয়ার সব থেকে বড় সুবিধা হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা, সিলেট থেকে প্রাইভেট গাড়িতে যেতে ১ঘন্টা ৩০ মিনিটে পৌছাতে পারবেন সেখানে। তাছাড়া সিলেটের কদমতলী বাসস্টপ থেকে চড়তে পারেন জকিগঞ্জগামী বাসে, সেক্ষেত্রে আপনাকে নামতে আমলশিদ টার্নিং পয়েন্টে। তারপর পায়ে হেটে পাঁচ থেকে সাত মিনিট হাটার পর আপনি চলে যেতে পারবেন ত্রিমোহনায়।

 

সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে এবং সঠিক ভাবে প্রচার হলে এই ত্রিমোহনা হতে পারে দেশের একটি অন্যতম ভ্রমণের স্থান। করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে দেশের সবধরনের পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা রয়েছে, তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মানুষের ভ্রমণ এবং বিনোদনের স্থান হিসাবে পরিচিতি পেতে পারে দেশের সীমান্তবর্তী থানা জকিগঞ্জের আমলশিদ ত্রিমোহনা। দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষদের আগমনে পর্যটন জেলা সিলেট পাবে আরেকটি সুন্দর বেড়ানোর জায়গা। এমন আশা সকলের।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর