ঢাকা ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯
নিজস্ব প্রতিবেদন : শহরে-গ্রামে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে হালকা কুয়াশার ছোঁয়া। ভাসছে হালকা কুয়াশার দীপ্তি। এটা যে হেমন্তের সকাল। ঠিক এমনই এক স্নিগ্ধ সকালে জড়ো হন বিশ্বকবি রবীন্দ্রপ্রেমীরা। মানুষের ঢল নামে সিলেটের ক্বীন ব্রিজ এলাকার ‘চাঁদনিঘাটে’। সুরমা নদীর জলে ফুল বর্ষণ করে বিশ্বকবিকে জানানো হয় শ্রদ্ধা, ভালোবাসায়। শ্রদ্ধা-ভালবাসা নিয়ে অদূরে থাকা বিশ্বকবিকেই যেনো এক ফুলেল বরণ। এর পর সংগীত শোভাযাত্রার মাধ্যমে ব্রাহ্ম মন্দিরে ফেরা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে শ্রীহট্র ব্রাহ্ম সমাজের পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘শব্দে-ছন্দে রবীন্দ্র স্মরণ’ শুরুর মূহুর্তের এ কথা।
.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৯ সালের ৫ নভেম্বর সকালে এসেছিলেন সিলেটে। সিলেটের রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রথমে চাঁদনিঘাট হয়ে প্রবেশ করেন শহরে। আগমন উপলক্ষে সেদিন রেলওয়ে স্টেশনে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয় তাঁকে। এর পর চাঁদনিঘাটে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেয় সিলেটের মানুষ। সেদিন তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন পুত্র রথিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর পুত্রবধূ। মূলত সিলেটের ব্রাহ্ম সমাজের আমন্ত্রণে সিলেটে এসে ব্রাহ্ম মন্দিরের একটি প্রার্থনাতেও যোগ দেন তিনি। সিলেটের সুন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে সিলেটকে নাম দিয়েছিলেন শ্রীভূমি। সময় পেরিয়ে কবিগুরুর আগমনের আজ পূর্ণ হল শতবর্ষ।
.
এদিকে কবিগুরুর সিলেট আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে তাঁকে স্মরণীয় করে রাখতে সিলেটে রয়েছে নানা আয়োজন। এসব আয়োজনের মধ্যে ইতিমধ্যে সকাল ৭ টায় তাঁর আগমনীস্থল চাঁদনিঘাটের সুরমা নদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে ‘শ্রীহট্র ব্রাহ্মসমাজ’। এরপর একটি সংগীত শোভাযাত্রা নিয়ে এসে বন্দরবাজারস্থ ব্রাহ্ম মন্দিরে আসেন কবিপ্রেমীরা। ব্রাহ্ম মন্দিরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শ্রীহট্র ব্রাহ্ম সমাজের আয়োজনে এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিশু, কিশোরসহ সকল বয়সের, শ্রেণী-পেশার মানুষ। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় সিলেটের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় কবিগুরুকে নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অন্যদিকে কবিগুরুর স্মরণে সিলেটে আয়োজন করা হয়েছে চার দিনব্যাপী ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণ উৎসব।’ তাদের এ আয়োজনের মধ্যে সকাল ১১টায় নগরভবনের সামন থেকে ইতিমধ্যে একটি শোভাযাত্রা করা হয়। যার মূল পর্ব শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৩টায় ক্বীন ব্রিজ এলাকার চাঁদনীঘাটে রবীন্দ্রনাথের ম্যুরাল উন্মোচনের মধ্য দিয়ে। ম্যুরাল উন্মোচনের মধ্য দিয়ে প্রথমে শুরু হয় আগমনী অনুষ্ঠান। এরপর স্মরণ উৎসব চলবে ৮ নভেম্বর রাত পর্যন্ত।
ক্বীন ব্রিজ, মাছিমপুর, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ, মুরারিচাঁদ কলেজ, সিংহ বাড়ি, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন জায়গায় পৃথকভাবে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হবে এ রবীন্দ্র স্মরণ উৎসব।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by syltech