ঢাকা ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০২০
এমরান আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জ
কারা সেই তিন ব্যক্তি জানতে চায় ফেঞ্চুগঞ্জসহ বহির্বিশ্বে অবস্থানরত ফেঞ্চুগঞ্জবাসি, যাদের জন্য জীবিত অবস্থায় একজন জনপ্রতিনিধি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজের অসহায় আত্মসমর্পণের কথা তিনি জানান দিয়েছিলেন।
তখনো হাসপাতালে ভর্তি হননি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমিন। সুস্থ অবস্থায় ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জের নিজ বাড়িতে। তারিখ ৫ই ডিসেম্বর। ওইদিন নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তিনি। এরপর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সেলিনা ইয়াসমিন। স্ট্রোক করার পর চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল ঢাকার একটি হাসপাতালে। সেখানেই ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার মৃত্যুর পর ফেসবুকে সেই স্ট্যাটাস নিয়ে তোলপাড় চলছে।
সেলিনার স্বজনরা জানিয়েছেন- ডিসেম্বরে দ্বিতীয় দফা অসুস্থ হন সেলিনা ইয়াসমীন। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রথমে সিলেটে চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায়। ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই রাতে সেলিনার লাশ নিয়ে আসা হয় ফেঞ্চুগঞ্জে। এবং ২৬ ডিসেম্বর শনিবার জানাজা শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয় হযরত শাহ সৈয়দ আলী মাজারে।
এদিকে সেলিনা ইয়াসমীন তার নিজের ক্ষতির কথা তুলে ধরে ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি এর জন্য দায়ী তিন ব্যক্তির কথা বললেও তাদের নাম বলেননি। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেছিলেন- ‘আমি বার বার বলছি আমি বিভিন্নভাবে মানুষের চাপের মুখে আছি। আমিও একজন মানুষ। আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যদি আমার শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক অবস্থার কোন ক্ষতি হয় তার জন্য মাত্র ৩ জন মানুষ দায়ী থাকবে। সমস্ত প্রমাণ আমার মেয়ের কাছে আছে, যথোপযুক্ত সময়ে আমার মেয়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবে। মনে রাখবেন ৩ জন মানুষই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমার ও আমার মেয়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’
এদিকে মৃত্যুর পর তার স্ট্যাটাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। স্বজনরা জানিয়েছেন পোস্ট দেয়ার পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার স্ট্রোক হয়। এ কারণে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম জানান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা তাঁর অসহায়ত্বের কথা আমাকে শেয়ার করেননি। একজন সহকর্মী হিসেবে তিনি চাইলে বিষয়টি আমাকে জানাতে পারতেন। কিন্তু তা জানাননি। পরে তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে তাঁকে ফোনও দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
একই বক্তব্য পাওয়া যায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মুরাদ এর কাছ থেকে। তিনিও বলেন, এ বিষয়ে সেলিনা তাঁকে কিছুই জানাননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেখে তিনি জানার চেষ্টা করলেও সেলিনা এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। তার মেয়ের কাছে কি তথ্য রয়েছে তা এখনো প্রকাশ পায়নি।
এ ব্যাপারে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কী না জানতে চাইলে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাফায়েত হোসেন বলেন, ফেসবুকের স্ট্যাটাস আমরা দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে এর তদন্ত চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by syltech