ঢাকা ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক
জেলা পরিষদ, সিলেট এর উপসহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদ। দীর্ঘপ্রায় দেড়দশক ধরে সিলেটেই তার অবস্থান। সিলেট জেলা পরিষদের কার্যক্রম শুরুর পর অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলী, আগমন ও প্রস্থান ঘটলেও তিনি একেবারে এর ব্যতিক্রম। মজবুত শেকড় গেড়ে আছেন জেলা পরিষদে। তাই তার প্রভাব প্রতিপত্তির কাছে উপরস্থ ও অধস্তন কর্তাব্যক্তিরাও জিম্মি। অতিপূরনো কর্মকর্তা হিসেবে হাটঘাট সবকিছুই তার চেনা ও জানা। তাই সবাই সবক নিতে হয় তার কাছ থেকে। অনিয়ম আত্মসাতের সব কলাকৌশল জেনে নিতে হয় তার দরস থেকেই।
আর এই সুযোগে সহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদ জেলা পরিষদ সিলেটকে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আখড়ায় পরিণত করে তুলেছেন। জ্ঞাতআয় বহির্ভুত পন্থায় কামাই করে চলেছেন কোটি কোটি টাকা। গ্রামের বাড়িতে ও ঢাকায় করেছেন একাধিক দালান বিল্ডিং, গাড়ি-বাড়ি ও জায়গা জমি। সিলেটেও রয়েছে নামে বেনামে তার অঢেল সম্পত্তি। তাইতো লুটেরা ঠিকাদারদের কাছে তিনি চোখের মণি। তিনি এবং তার তদবীরেই সরকারি নিয়ম-নীতি উপক্ষো করে টেন্ডার কারসাজির মাধ্যমে তার পছন্দমসই গুটি কয়েক ঠিকাদারকে জেলা পরিষদের কাজ পাইয়ে দিয়ে থাকেন। আর এতে মোটা অংকের ভাগ বসিয়ে থাকেন উপসহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদ। নি¤œমানের কাজ করিয়ে এমনকি কাজ না করিয়েও কাজ সম্পন্নের রিপোর্ট নিয়ে জেলা পরিষদের বিল তুলে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়ে থাকে উপসহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদ ও তার অনুগত কর্মকর্তাদের মধ্যে।
অভিযোগে প্রকাশ, সহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদের তদবীর ও কৌশলে টেন্ডার কারসাজির মাধ্যমে নগরের মেন্দিবাগ মার্কেট নির্মাণ ও জেলা পরিষদের ডাক বাংলাসহ বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়েছে তার অনুগত ঠিকারদেরকেই। তাইতো অন্যায় লাভের আশায় কতিপয় ঠিকাদার ও নামধারী মিডিয়াকর্মী তার প্রশংসায় পঞ্চমূখ হয়ে থাকেন এবং তাকে জেলা পরিষদে ঠিকিয়ে রাখতে উপরমহলে তদবীরও করে থাকেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদের অনিয়ম-আত্মসাত প্রতিবাদ করতে কেউই সাহস পান না। তার কথামতো কাজ না করলে কর্মকর্তাদের উপর নেমে আসে শাস্তির খড়গ। প্রতিবাদ করলে নেমে আসে শাস্তিমূলক বদলীসহ হামলা ও মামলার হুমকি। আর এ কারণে জেলা পরিষদের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।
উপসহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদের নেতৃত্বে চলমান এহেন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে জেলা পরিষদের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। এ ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সম্প্রতি সিলেট জেলা পরিষদে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা হয়েছে। জেলা পরিষদ কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তোজাম্মেল হক তাজুলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আশফাক উদ্দিন আহমদের পরিচালনায় নগরের জিন্দাবাজারে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, সিলেট জেলা পরিষদে কতিপয় কর্মকর্তা তাদের পছন্দমতো গুটিকয়েক ঠিকাদারকে সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে টেন্ডার কারসাজির মাধ্যমে মেন্দিবাগ মার্কেট নির্মাণ ও জেলা পরিষদের ডাকবাংলোসহ বিভিন্ন কাজ দিয়েছেন। এছাড়া কোটেশনের মাধ্যমে কাজ না করে বিল তুলে তাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন। এর প্রতিবাদে সিলেট জেলা পরিষদ কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিগত সময়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার বা ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
বক্তারা আরও বলেন, বিগত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে অনুষ্ঠিত ৫টি (ওটিএম) টেন্ডার বাতিলের আহবান জানালে ৪টি টেন্ডার বাতিল করে ১টি দুর্নীতিগ্রস্ত টেন্ডার বহাল রাখা হয়েছে। সিলেট জেলা পরিষদ কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ এসব অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মূল হোতা সহকারী প্রকৌশলীসহ তার অনুগামী কর্মকর্তাদের দ্রæত প্রত্যাহার দাবি করেনে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে জানান তারা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা পরিষদ কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও সিলেট চেম্বারের পরিচালক আব্দুর রহমান জামিল, সুব্রত ধর বাপ্পি, সুদীপ দেব, সাজ্জাদ বখত, কামাল আহমেদ, সোয়েব আহমেদ, আলহাজ এম ইসমাঈল আলী আশিক প্রমুখ।
অনিয়ম-দুর্র্নীতি আত্মসাত ও স্বজনপ্রীতির ব্যাপারে সিলেট জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী হাসিব আহমদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের খতিয়ান প্রকাশের নিমিত্তে বিজয়ের কণ্ঠের অনুসন্ধানী টিম মাঠে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হবে বলে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বি:দ্র:- সর্বসত্ব সংরক্ষিত, কপি রাইট আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by syltech