কোম্পানীগঞ্জের উৎমা-জিরো পয়েন্ট খাবলে খাচ্ছেন চেয়ারম্যান ফরিদ

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১

কোম্পানীগঞ্জের উৎমা-জিরো পয়েন্ট খাবলে খাচ্ছেন চেয়ারম্যান ফরিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সিলেট তথা দেশের সর্ববৃহৎ ভোলাগঞ্জসহ সব ক’টি পাথর কোয়ারী। বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও পাথরখেকোদের মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংসের জন্যই পাথর কোয়ারীগুলো বন্ধ থাকার অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিন ধরে পাথর কোয়ারীগুলো বন্ধ থাকার কারণেই এখনো আহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন কয়েক লাখ লাখ মানুষ। ঋণের দায়ে দেউলিয়া হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন পাথর ব্যবসায়ীসহ পাথর সংশ্লিষ্ট হাজারো ব্যবসায়ী।

 

তবে ইজারার কারণেই সচল রয়েছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের উৎমা পাথর কোয়ারী। যে কারণে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন পাথর ব্যবসায়ীসহ খেটে খাওয়া হাজার হাজার পাথর শ্রমিক। তবে ইজারার নামেও এই কোয়ারিতেও চলছে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ড। মিনি বোমামেশিন নামক এক ধরণের শক্তিশালী লিস্টার মেশিন দিয়ে চলছে পাথর উত্তোলন। ধ্বংস করা হচ্ছে রাস্তাঘাট এবং সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত বনশ্রী আদর্শ গ্রামসহ দৃষ্টিনন্দন স্থান, এমনকি জিরো পটয়েন্ট। বদলে দেওয়া হচ্ছে দেশের মানচিত্র।

 

পাশপাশি উৎমা কোয়ারীতেও অতীতের ন্যায় শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। আর এ চাঁদাবাজ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫নং উত্তর রণিখাই ইউপি চেয়ারম্যান নব্য আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন। রাজনৈতিক কারণে প্রভাবশালী হওয়ায় চেয়ারম্যান ফরিদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না কেউই। ওই প্রভাবশালী চেয়ারম্যান ফরিদের নামে কোয়ারির গর্তগুলো থেকে আদায় করা হচ্ছে বড় অংকের চাঁদা।

 

জানা যায়, উৎমা পাথর কোয়ারী ইজারার সীমানা থাকলেও সেই সীমানা মানছেন না পাথরখেকো ও চাঁদাবাজরা।

 

ইজারা বর্হিভ‚ত সরকারি ও বেসরকারি জায়গায় শতাধিক গর্ত করে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। ইজারাকৃত ও ইজারা বহির্ভূত এসব জায়গা থেকে পাথর উত্তোলনে কোনো ধরণের নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। যে যার মতো করে উত্তোলন করছেন পাথর। শর্ত অনুযায়ী ইজারাদার তার ইজারাকৃত স্থানের সীমানা চিহ্নিত করে পাথর উত্তোলন করবেন। কিন্তু ইজারাদার তার ইজারাকৃত স্থানের সীমানা চিহ্নিত না করায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিনের শেল্টারে অসাধু পাথর ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র গর্ত করে লুটপাট করছেন পাথর সম্পদ। বিনিময়ে চেয়ারম্যান নিচ্ছেন প্রতিটি গর্ত থেকে বিনা পুঁজিতে ২৫% অংশীদারিত্ব।

 

স্থানীয়রা জানান, শুধু ইজারা বহির্ভূত এলাকা নয় সীমান্তের “নো ম্যানস ল্যান্ড” ঘেঁষে হওয়া গর্তগুলোতেও রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিনের বিশাল আধিপত্য। যিনি তাকে অংশ দেবেন তিনিই “নো ম্যানস ল্যান্ড” ঘেঁষে করতে পারবেন গর্ত। চেয়ারম্যান ফরিদের তৈরী একটি বাহিনীও রয়েছে কোয়ারী এলাকায়। এক কথায় চাঁদার বিনিময়ে উৎমা ও জিরো পয়েন্ট খাবলে খাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ।
স্থানীয়রা আরো জানান, পাথর কোয়ারীতে নিরাপত্তার নামে চেয়ারম্যান কর্তৃক গঠিত বাহিনী দিয়ে প্রতিদিন আদায় করা হয় লাখ লাখ টাকার চাঁদা। যেসব গর্ত মালিকরা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তখন ওই বাহিনী দিয়ে প্রথমে গর্ত বন্ধ করার হুমকি প্রদান করা হয়। তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে বন্ধ করে দেওয়া হয় সেসব গর্ত।

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উৎমা কোয়ারী এলাকায় প্রায় ৩ শতাধিক গর্ত রয়েছে। এসময় স্থানীয়রা জানান, প্রত্যেক গর্ত থেকে প্রতিদিন দুই ধাপে চাঁদা আদায় করা হয়। প্রথম ধাপে ৩ হাজার আবার দ্বিতীয় ধাপে ২ হাজার টাকা করে মোট ৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয় চেয়ারম্যান ফরিদের নামে। এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত ১০/১৫টি পে-লোডার ও এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে গর্ত বড় ও গভীর করার কাজ করা হয়। এক রাত কাজ করতে হলে প্রতিটি পে-লোডার ও এক্সকেভেটর মালিককে “ওয়ান ম্যান আর্মি” খ্যাত চেয়ারম্যানকে গুনতে হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেওয়ার নামে এ চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পাথর ব্যবসায়ীরা কোয়ারীতে বিভিন্ন স্টাইলের চাঁদাবাজির বিস্তর তথ্য দেন। তারা বলেন, দিনে গর্ত আর রাতে পে-লোডার ও এক্সকেভেটর থেকে ইচ্ছে মাফিক চাঁদা আদায় করা হয় চেয়ারম্যানের নামে। উৎমা কোয়ারী এলাকার একটি বাড়িতে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর আদায়কৃত চাঁদার টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান ও অন্যান্যদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারার আসর বসে। সেই আসরের সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান নিজেই। ভাগ-বাটোয়ারার সিংহভাগ টাকা চলে যায় চেয়ারম্যানের পকেটে।

 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিনের বেপরোয়া অনিয়ম ও চাঁদা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের দেয়া অসংখ্য বক্তব্য বিজয়ের কণ্ঠ’র কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আগামী যে কোন সংখ্যায় তা প্রকাশ করা হবে।

 

জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫নং উত্তর রণিখাই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জনৈক ফখর উদ্দিনের ইজারা মহাল ও ব্যক্তিমালিকানা কিছু জায়গা হতে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ধ্বংসের কোন কারণ নেই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর