ঢাকা ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২৪
গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা
গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক আব্দুশ শহীদ সহ দুইজনকে আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ঠাকুরবাড়ি গ্রামের যুব সংগঠক ও এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি সিরাজ উদ্দিন সিরাইর পুত্র রইছ উদ্দিন।
অভিযোগ পত্রে তিনি বলেন, গোয়াইনঘাট থানাধীন ০২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের অন্তর্গত বিবাদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা কমিটির সদস্য আব্দুস শহীদ অবৈধ ফ্যাসিষ্ট ক্ষমতাসীন থাকাকালীন অবৈধভাবে এলাকার বহু লোকের জমি দখল করে থাকে। সরকারের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে পারতেন না।
এরই ধারাবাহিকতায় আব্দুশ শহীদ এর নির্দেশে সাম্প্রতিক ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ আহমদ সহ একই সাকিনের পাশাপাশি বাড়ির লোক। নিম্ন তপশীল বর্ণিত ভূমি, জেলা- সিলেট, থানা- গোয়াইনঘাট, মৌজা- তারুখাল, জে.এল নং- ৬২, নামজারী খতিয়ান নং- ৭৪৭, দাগ নং- ১১০০, এরিয়া- ১৭ শতক, শ্রেণি- চারা রকম ভূমি। উক্ত ভূমি আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যগণ মালিক থাকিয়া তাহা ভোগদখল ব্যবহার রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করিয়া আসিতেছি। বিবাদীদ্বয় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের গোয়াইনঘাট উপজেলার সক্রিয় সদস্য ও পদবীধারী লোক হওয়ার কারনে আমার বর্ণিত ভূমি জোরপূর্বক দখল করিয়া তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য পায়তারা করিতে থাকে।
এছাড়াও জানা যায় আব্দুশ শহীদ পেশায় একজন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তিনি বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে দলের প্রভাব খাটিয়ে স্কুল কে নিজের বাড়ি ঘরে রুপান্তর করেছেন। নিজের বউ, ছেলে, ভাতিজা, ভাগনা সহ একই পরিবারের পাঁচজন লোককে বেআইনী ভাবে প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দিয়েছেন। এ বিষয়ে গত ৫ ই আগস্টের পর এলাকায় প্রতিবাদ হলে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে স্কুলের বিভিন্ন শিক্ষককে মারপিট করার অভিযোগ অনেক। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম কে বিভিন্ন সময় তিনি মারপিট করেছেন এছাড়াও ইংরেজি শিক্ষক বশির উদ্দিন কে মারপিট করে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেন। এ ব্যাপারে তিনি ইউএনও ও শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চ বিভাগে অভিযোগ দায়ের করলে সেনাবাহিনী তাকে স্কুলে পাঠদান করার ব্যবস্থা করে দেয়।
এছাড়াও স্কুলের সভাপতি তাহার বোনের জামাই হওয়ার সুবাদে তিনি স্কুল কে নিজের বাড়ি বানিয়ে রাজার মত রাম রাজত্ব করেন। স্কুলের কোন ছাত্র কে বিগত দিনের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে দেননি। এমনকি কোন ছাত্র ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কোন সংগঠন করলে মারপিট ও বহিষ্কার করতেন। অন্য রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হলে তার বিরুদ্ধে নেন ব্যবস্থা এমন অভিযোগ স্থানীয় এক বিএনপি নেতার।
একাধিক বার ফোন করা হলে অভিযুক্ত আব্দুশ শহীদ ফোন রিসিভ করেন নি।
বাদি রইছ উদ্দিন জানান আমার পিতৃসম্পদ সরকারের প্রভাব কাটিয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দূরে রাখা হয়েছে। আমি এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশে এর বিচার চাই এবং আমার সম্পত্তি আমার দখলে চাই। এবং ফ্যাসিবাদ মুক্ত দেশ চাই।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার তোফায়েল জানান মাষ্টার আব্দুশ শহীদের বিরুদ্ধে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by syltech