৬ মাস ধরে নেই সাব রেজিস্ট্রার : দলিল সম্পাদনে ভোগান্তি

প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০১৮

৬ মাস ধরে নেই সাব রেজিস্ট্রার : দলিল সম্পাদনে ভোগান্তি

গোলাম মর্তুজা বাচ্চু
ক্রেতা-বিক্রেতা বহুল সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্র্রি অফিসে কোন সাবরেজিস্ট্রার নেই। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে পদটি খালি রয়েছে। সপ্তাতে এক বা দুদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন অন্য অফিসের সাবরেজিস্ট্রার। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি চরমে এবং দালাল মুহুরীদের পোয়াবরো ।

জানা গেছে, সিলেট জেলার সাবরেজিস্ট্র্র্রি অফিসগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক সাবরেজিস্ট্রার নেই। একজন সাবরেজিস্ট্রার ৩টি উপজেলা অফিসের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্র্র্রি অফিস সর্বাপেক্ষা ক্রেতা-বিক্রেতা বহুল অফিস। এ অফিসে দৈনিক শত শত লোক জমি ক্রয় বিক্রয় করতে আসেন। কিন্তু সাবরেজিস্ট্রার না থাকায় পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। আর এ সুযযোগে দালাল ও মুহুরীরা আদায় করে নেন অতিরিক্ত টাকা।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্র্র্রি অফিসের সাবরেজিস্ট্রার পদে আছেন মো. সহিদুর রহমান প্রধান। তিনি নিজ অফিসের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশ্বনাথ ও সদর সাবরেজিস্ট্র্র্রি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সপ্তাহে ৫ কার্যদিবসের মাধ্যে এক অথবা দুদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্র্র্রি অফিসে। বাকি ৩ দিন নিজ উপজেলা ও বিশ্বনাথ সাবরেজিস্ট্র্র্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর সাবরেজিস্ট্রার পদে রয়েছেন সোহেল আহমদ। সপ্তাহে দুই অথবা তিনদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজার সাবরেজিস্ট্র্র্রি অফিসে।

আজ থেকে ৬ মাস আগে সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্র্রি অফিসের সাবরেজিস্ট্রার পদে ছিলেন মো. আবুবকর সিদ্দিক। তাকে বদলী করে নেয়ার ৬ থেকে ৭ মাস পর সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্র্রিার পদে আসেন সেলিম হাওলাদার। কিন্তু একমাসের মাথায় পদোন্নতি জনিত কারণে তিনিও অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্র্রি অফিসে কোন সাবরেজিস্ট্রারের পদায়ন হয়নি। গোলাপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্র্র্রি অফিসের সাবরেজিস্ট্রার মো. সহিদুর রহমান প্রধান সপ্তাতে দুদিন অথবা একদিন করে এই অফিসে এসে সাবরেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

শুধু সাবরেজিস্ট্রার সংকট নয়, দীর্ঘ এক বছর সিলেট জেলা রেজিস্ট্রারের পদটিও ছিল খালি। হবিগঞ্জে জেলা রেজিস্ট্রার ইলিয়াস হোসেন সিলেট জেলা রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর বর্তমানে সিলেট জেলারেজিস্ট্রার পদে জসিম উদ্দিন নামে এক কর্মকর্তা যোগদান করেছেন।

গোলাপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্র্র্রি অফিসের সাবরেজিস্ট্রার মো. সহিদুর রহমান প্রধান এ প্রতিবেদককে জানান, জমি ক্রয়-বিক্রয়ে দাতা গ্রহীতা উভয়েরই সচেতন হওয়া দরকার। রেজিস্ট্র্রির ব্যাপারে প্রতারিত না হয়ে সরাসরি সাবরেজিস্ট্রারের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরো জানান, অনেকে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রেজিস্ট্র্রি করতে আসেন। তদন্ত সাপেক্ষে জমির শ্রেণি নিশ্চিত হয়ে রেজিস্ট্র্রি করলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। শ্রেণি পরিবর্তনের দলিল তদন্তে প্রমাণিত হলে দলিলটি বাতিল করা উচিত বলে জানান তিনি।

অন্য একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, সিলেট জেলা মহাফেজখানা রেকর্ডরুমে বিদ্যুৎ নেই। টর্চ লাইট জ্বালিয়ে বালাম বহি খোঁজতে হয়। তাই সার্টিফাইড দলিল প্রত্যাশীদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে এক শ্রেণির অসাধু নকল নবিশের যোগসাজশে কিছু সংখ্যক উমেদার বালাম বহি লুকিয়ে রেখে বলে বহি খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত টাকা ব্যায়ে সার্টিফাইড নকল উঠাতে হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর