ঢাকা ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৮
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
হাত বদলে প্রাণে বেঁচেছে দুষ্পাপ্য একটি বৃ। সে খুঁজে পেয়েছে মাথা উঁচু করে প্রকৃতিতে দাঁড়িয়ে থাকার গৌরব। তার শারীরিক ধীর বয়োবৃদ্ধিতে এসেছে ফলের সমারোহ। সার্থক হয়েছে ১৬টি বছর আগের বার্ধক্যদানের প্রতিশ্রুতি।
‘রুটি ফল’ নামের কোনো ফলই ইতোপূর্বে শুনেননি ফলপ্রেমীসহ অধিকাংশ মানুষ। আর বাংলাদেশের ফলের তালিকায় নেই এই ফলের সর্বজনীন স্বীকৃতিটুকুও। তবে ঠিকই এটি ২০০৫ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে তার আপন শোভা বৃদ্ধি করে ফুল-ফল দান করে চলেছে।
এই রুটি ফলের ইংরেজি নাম ইৎবধফভৎঁরঃং এবং বৈজ্ঞানিক নাম অৎঃড়পধৎঢ়ঁং ধষঃরষরং। এই বৃটি ‘তাহিতি’ নামে একটি আইল্যান্ডে প্রথম পাওয়া যায়। এর আদিনিবাস প্রশান্ত মহাসাগরীয় পলিনেশিয়া, মাক্রোনেশিয়া, ওশেনিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে। বৃটিশরা এই অঞ্চলে এসে এর আবিষ্কার করে।
কিভাবে এ ফলটির বাংলাদেশে আবির্ভাব হলো -এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এয়ার কমান্ডার জিয়ারত আলী সাহেব ২০০২ সালের দিকে শ্রীলঙ্কা থেকে এই গাছের চারা নিয়ে আসেন এবং ক্যান্টনমেন্টে তার বাংলোতে রোপণ করেন। ২০০৪ সালের দিকে তিনি অবসরে চলে যাবার আগে ২০০৩ এর সেপ্টেম্বরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
‘ওই ভদ্র লোক বলেন, আমার কাছে এমন একটি দুর্লভ বৃ রয়েছে- যেটা আমি অনেক দূর থেকে নিয়ে এসেছি। এখন আমার তো চাকরি শেষ অবসরে চলে যাচ্ছি। আমার পরে যে আসবেন তিনি এই দুর্লভ গাছটা সম্পর্কে বুঝবেন কিনা আমার সন্দেহ।’
তিনি বলেন, বিমানবাহিনীর ওই কর্মকর্তা আমায় বলেন-গাছটিকে তিনি এমন একটি জায়গায় রেখে যেতে চান যেখানে যেতে ও নিরাপদে থাকবে। দেশব্যাপী গাছটি ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এটি সম্পর্কে মানুষকে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহেরও সুযোগ দিতে চান তিনি। পরে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাখেণ তিনি।
‘সেই সঙ্গে শর্তজুড়ে দেন- গাছের ফল খাওয়াতে এবং পরবর্তীতে এর একটি চারা দিতে হবে।’
প্রফেসর ড. জসীম উদ্দিন বলেন, গাছটি যখন আনা হয়- তখন ‘ম্যানহাইট’ অর্থাৎ পাঁচ-সাড়ে পাঁচ ফুট ছিলো। তখন এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে রোপণ করা হয়। ২০০৫ সালে আগস্টে এই গাছে প্রথম ফল আসে। তখন শর্ত অনুযায়ী বিমান বাহিনীর ওই কর্মকর্তাকে ফল নিয়ে যেতে বলি। তবে এর ফলে কোনো বীজ নেই। এটি হচ্ছে হাইব্রিড।
‘সম্প্রতি আমেরিকা থেকে ওই ভদ্রলোক আসেন। এরই মধ্যে গাছটির মূল থেকে একটি চারা হয়। এটি তাকে দিতে চাইলে একমাত্র বলে চারাটি তিনি নিতে যেতে চাননি। বোটানিক্যাল গার্ডেনেই রোপণের পরামর্শ দেন,’ বলেন তিনি।
ফলটির গুণাগুণ নিয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড. জসীম বলেন, ‘ফলটি খেতে অনেকটা মিষ্টি আলুর মতো। পাতলা ও কাঁঠালের চামড়ার মতো। কোনো কিছু দিয়ে ঘষা দিলে আলুর চামড়ার মতো উঠে যায়। পুরোটাই ফল। ভেতরে কাঁঠালের মতো একটু মোথা রয়েছে। স্লাইস করে বেকিং করে ভাজি করে, চিপস বানিয়ে অথবা পাউডার করে আটা বানিয়ে, পুডিং বা কেক বানিয়ে নানাভাবে খাওয়া যায়। এটি একটি অত্যন্ত উপকারী ফল। আদর্শ খাদ্যের যত গুণাগুণ থাকার কথা, প্রায় সবগুলোই এই ফলের মধ্যে রয়েছে। যেমন- কার্বহাইড্রেড, প্রোটিন, ডাইটারিফাইভার, সুগার, ১২ প্রকারের বিভিন্ন ভিটামিন, ৮ প্রকারের মিনালেরসহ ৭০ শতাংশ পানি রয়েছে এই ফলে। এটি এমন একটি ফল যা খেলে মানুষের ভাত না খেলেও চলবে।
পৃথিবীর ৯০টি দেশে উষ্ণাঞ্চলীয় দেশে (ট্রপিক্যাল) বর্তমানে এটি চাষ হচ্ছে। ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডসহ আফ্রিকা এবং সাউথ আমেরিকার অনেক দেশ এ ফল প্রাপ্তিস্থানের তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দু-চারটি স্থানে এই দুষ্পাপ্য উদ্ভিদটি রয়েছে বলে জানান প্রখ্যাত উদ্ভিদ গবেষক ড. জসীম উদ্দিন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by syltech