কানাইঘাটের কৃতি সন্তান ‘মিনিস্টার আব্দুস সালাম’ স্মরণে

প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৯

কানাইঘাটের কৃতি সন্তান ‘মিনিস্টার আব্দুস সালাম’ স্মরণে

১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


আবুল হাসনাত, কানাইঘাট প্রতিনিধি
মিনিস্টার আব্দুস সালাম কানাইঘাটের কৃতি সন্তান। যে নামটি আজ স্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে। কানাইঘাট তথা সিলেট বিভাগের বর্তমান প্রজন্ম এই নামটিই হয়তো জানেনা। জানবেইবা কেমনে? কারণ সবাই যার যার বগল বাজানোয় ব্যস্ত। এই গুণী লোকটাকে স্বরণ করার ফুরসৎ কোথায়? যে স¤প্রদায় গুণীজনের সম্মান জানায়না সে সম্প্রদায়ে গুণীজন জন্মায় না। আজ তার ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মরহুমের স্বরণার্থে কিছু লিখতে মন চাইতেই লিখা।

সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সালাম কানাইঘাট উপজেলার সোনাপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে এই খাটি সোনা জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মুন্সী হাজীর আলী এবং মাতা আলেকজান বেগমের জৈষ্ঠ সন্তান তিনি। ১৯১৮ সালে বীরদল পাঠশালায় শিক্ষা জীবন শুরু করে ১৯২২ সালে কানাইঘাট গভর্নমেন্ট এম, ই, স্কুলে ভর্তি হন। তার পর ১৯৩১ সালে ঝিংগাবাড়ী হাই মাদ্রাসা থেকে ১ম বিভাগে এন্ট্রান্স পাস করেন। ১৯৩৩ সালে সিলেট এম,সি কলেজ থেকে আই,এ এবং ১৯৩৬ সালে ডিসটিংশনসহ বি,এ পাস করেন। অত:পর উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য ১৯৩৬ সালে কলিকাতা আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে এম, এ এবং আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৩৭ সালের ১৯ জানুয়ারি ছাত্র অবস্থায় তিনি বৃহত্তর জৈন্তা নির্বাচনী এলাকা থেকে বিপুল ভোটে আসাম প্রাদেশিক ব্যবস্থাপক সভায় এম,এল,এ নির্বাচিত হন। অনেকগুলো আঞ্চলিক দলের মধ্যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ছাত্রাবস্থায় মাত্র ৩১ বৎসর বয়সে আসাম এসেম্বলির অন্যতম বয়ংকনিষ্ঠ সদস্য (এম,এল,এ) নির্বাচিত হওয়া ছিল একটি বিরল ঘটনা। ১৯৩৭-১৯৪৬ সাল পর্যন্ত ৯ বৎসর আসাম এসেম্বলির সদস্য ছিলেন। ১৯৫৪ সালে সিলেট জেলা মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালে কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার নির্বাচনী এলাকা থেকে মুসলিম লীগের হয়ে প্রাদেশিক পরিষদের উপর্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান প্রাদেশিক সরকারের রাজস্ব ও ভূমি প্রশাসন মন্ত্রী নিযূক্ত হন।

মন্ত্রী নিযূক্ত হওয়ার পর উনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের ভূমি ব্যবস্থাকে সূদৃড় ও গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি ভূমি কমিশন গঠন করা হয়। এই প্রশাসন ভূমি উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার সুফল আজ দেশব্যাপী ভোগ করছে। কানাইঘাট, জৈন্তা, গোয়াইন ঘাট এলাকার শিক্ষার প্রসারে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। বৃহত্তর জৈন্তিয়া এলাকার বাড়ি জমি-জমা সরকারী ক্রোক নিলাম থেকে রক্ষা করেছেন। দরবস্থ- কানাইঘাট সড়ক ও চারখাই- জকিগঞ্জ পর্যন্ত রাস্থা পাকাকরণে তারই অবদান। প্রতিটি থানায় সার্কেল অফিসার নিয়োগ, ৪৫০ বিঘা পর্যন্ত জলমহাল মালিকানা জনসাধারণের ভোগের জন্য দেয়া, ১৯৬২ সনে সিলেট অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় তার ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা ও পূনর্বাসন কার্য্যক্রম সহ গুটা দেশ তথা সিলেটবাসীর জন্য তার অনেক অবদান রয়েছে যা এই সল্পপরিসরে উল্লেখ করা সম্ভব নয়।

নির্মোহ, প্রচার বিমুখ এই মন্ত্রী আব্দুস সালাম সম্পদ কামানোর ধান্ধা করেননি। চরম সৎ ব্যক্তিত্ব, শহরে উনার কোন বাড়ি নেই। জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত গ্রামের বাড়িতে কাটিয়ে ১৯৯৯ সালের ১০ই মে কর্মবীর রাজনীতিক সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সালাম ইন্তেকাল করেন।

সর্বশেষ ২৪ খবর