সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় অমানসিক নির্যাতনের শিকার মৌরস আলী

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২১

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ</span> <br/> মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় অমানসিক নির্যাতনের শিকার মৌরস আলী

বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণে পিবিআই সিলেটে কর্মরত ইন্সপেক্টর সুমন কুমার চৌধুরীর হাতে অমানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক ব্যাক্তি। নির্যাতনের শিকার হয়ে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে তিনি সময় পার করছেন বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন বিশ^নাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের মিরগাঁও গ্রামের মৃত লতিব আলীর ছেলে মৌরস আলী। এ ঘটনায় তিনি আইজিপি ও পিবিআইর মহাপরিচালক এবং সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির নিকট লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন।

 

লিখিত বক্তব্যে মৌরস আলী বলেন, মামলার বিবাদী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইন্সপেক্টর সুমন মামলার বাদী ও সাক্ষীদের চরম হয়রানি এবং গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এমনকি আমাদের এলাকার দানবীর এবং ব্রিটেনের জুরি বোর্ডের সদস্য ব্যারিস্টার আব্দুন নূরকে মামলায় জড়ানোর অপতৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি। মৌরস বলেন, ব্রিটিশ নাগরিক ব্যারিস্টার আব্দুন নূর এক সমাজহিতৈষী মানুষ। উনার বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে আমি দীর্ঘদিন থেকে কর্মরত। ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর রাতে গ্রামের রবাই, শায়েস্তা, আসকর, ফারুক, লোকমান ও আশিক গংরা আমাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কয়েকটি পরিবারের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। খবর পেয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অনেকেই আমাদের বাড়িতে ছুটে আসেন। তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঢেউটিন প্রদান করেন। শফিকুর রহমান চৌধুরী আগুণে ভষ্মিভূত ঘরগুলো পুননির্মাণ করে দিতে আব্দুন নূরকে অনুরোধ করেন। এতে নূর সম্মতি প্রদান করেন এবং ঘরগুলো নির্মাণ করে দেন। তৎকালীন সময়ে বিশ^নাথ থানার ওসি আমাদের লিখিত অভিযোগ না নিয়ে তার মনমতো মাত্র দুজন ব্যক্তিকে আসামি করে নতুন করে অভিযোগ লিখিয়ে তাতে জোরপূর্বক বাদী নুরুন নেছার স্বাক্ষর নেন । ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিশ^নাথ থানা পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। মামলার বাদী এতে নারাজী প্রদান করলে আদালত মামলাটি পুনতদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই পিবিআইর ইন্সপেক্টর সুমন কুমার চৌধুরী মামলাটি তদন্ত করে আসছেন।

 

মৌরস অভিযোগ করে বলেন, গত ২৬ জুন হঠাৎ করেই ইন্সপেক্টর সুমন আমাকে আব্দুন নূরের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান পিবিআই সিলেট অফিসে। সেখানে একটি কক্ষে আমাকে বন্দী করে সীমাহীণ নির্যাতন চালিয়ে বলা হয়, তুই স্বীকার কর প্রবাসী আব্দুন নূরের নির্দেশে আব্দুল মালিক তোদের ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি তার কথায় রাজী হইনি। পরের দিন একজন বিচারকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন তোমার উপর কোনো নির্যাতন হয়েছে কি না। তখন আমি হাউমাউ করে কেঁদে নির্যাতনের কথা আদালতকে জানাই। নির্যাতনের কথা শুনে মাননীয় আদালত আমার জবানবন্দী গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে আমাকে অন্য আরেকজন বিচারকের নিকট নিয়ে যাওয়া হলে আমার দুইদিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমাণ্ডে আমার উপর পুনরায় নির্যাতন শেষে আদালতে নিয়ে আসা হলে স্ত্রী-সন্তানদের কথা ভেবে তাদের কথামতো জবানবন্দী দেই। ২৪ দিন কারাভোগের পর গত ১৯ জুলাই জামিনে বের হই। আমার উপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তা মনে হলে এখনো আমার গা শিউরে উঠে। সংবাদ সম্মেলন করায় আশঙ্কা করছি, আমাকে ধরে নিয়ে আবারও নির্যাতন করা হতে পারে। আমি একজন নিরীহ মানুষ। আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা মোকদ্দমা নেই। সংবাদ সম্মেলনে মৌরস নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পিবিআইর সর্বোচ্চ মহল ও আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর